মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব আদিবাসী এলাকায় অবৈধ ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়কে প্রলোভন দেখিয়ে, বিভ্রান্ত করে অথবা জোরপূর্বক ধর্মান্তর করার চেষ্টা করলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এমন কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয় রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তাই কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যদি জোর, প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরের চেষ্টা করে, তাহলে তা সহ্য করা হবে না। গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে কিছু খ্রিস্টান মিশনারির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা প্রলোভন দেখিয়ে আদিবাসীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে এই অভিযোগগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি করা যায় না। অনেক অভিযোগ তদন্তাধীন থেকেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ অস্বীকারও করা হয়েছে। তাই অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধ এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। রাজ্য সরকারের এই অবস্থানকে অনেক আদিবাসী নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জোরপূর্বক বা প্রলোভন দিয়ে ধর্মান্তরের চেষ্টা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং আদিবাসীদের ঐতিহ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু খ্রিস্টান সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, আইন প্রয়োগের সময় যেন ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। তাঁদের মতে, কেউ যদি স্বেচ্ছায় নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেন, তাহলে সেটি সংবিধান প্রদত্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ। মোহন যাদব স্পষ্ট করেছেন যে সরকার সব ধর্মের প্রতিই সম্মান দেখায়। কিন্তু প্রলোভন, প্রতারণা বা জোর করে ধর্মান্তর করানো আইনসিদ্ধ নয়। সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মান্তর-বিরোধী আইন আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, অন্যদিকে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তর রোধ। আইনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, কেউ যেন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য না হন এবং একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই কড়া অবস্থান বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এর কী প্রভাব পড়ে।