বলিউডের ‘বর্ডার’ খ্যাত অভিনেতা সুদেশ বেরিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসাই করেননি, তাঁকে ‘ভগবান বিষ্ণুর অবতার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পা ধুয়ে সেই জল পান করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে সুদেশ বেরি বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে তিনি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেন না, বরং একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর দাবি, মানুষ যেমন ঈশ্বরকে না দেখেও বিশ্বাস করে এবং পূজা করে, তেমনই তিনি নরেন্দ্র মোদিকেও গভীর শ্রদ্ধা করেন। নিজের মায়ের পা ধুয়ে সম্মান জানানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনও দিন সুযোগ পান, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির পা ধুয়ে সেই জল পান করাও তাঁর কাছে গর্বের বিষয় হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন নিয়েও সরব হন অভিনেতা। আন্দোলনকারী একটি রাজনৈতিক দলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার বদলে শুধুমাত্র বিক্ষোভ দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। তাঁর মতে, সমাজের জন্য সত্যিই কিছু করতে চাইলে শিশুদের জন্য পার্ক তৈরি করা, বৃদ্ধদের জন্য আশ্রয় গড়ে তোলা কিংবা মানুষের কল্যাণে কাজ করা উচিত।
সুদেশ বেরি আরও দাবি করেন, বর্তমানে দেশে ‘রামরাজত্ব’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। তাঁর মতে, এই নেতারা দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নিরন্তর কাজ করছেন।
অভিনেতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকারকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত ও বিতর্ক উসকে দেওয়ার মতো বলে সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধর্মীয় অবতারের সঙ্গে তুলনা করা এবং পা ধোওয়া জল পান করার ইচ্ছা প্রকাশ ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের এই ধরনের মন্তব্য জনমনে দ্রুত প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যদিও সুদেশ বেরি তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
