সারাদেশকে নাড়িয়ে দেওয়া আরজি করের নৃশংস কাণ্ডে বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে এবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মোড়। তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, তথ্যপ্রমাণ লোপাটকারীদের আড়াল করার চেষ্টা এবং গা-ছাড়া মনোভাবের অভিযোগে হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার পর— সিবিআই তাদের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাকে সরিয়ে নতুন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দিল সন্দীপনি গর্গকে। ১ বছর ৭ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় এবং নির্যাতিতার মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য নথিবদ্ধ না করায়— কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে সিবিআই-এর হাত থেকে আরজি করের এই মেগা মামলা কেড়ে নেওয়ারও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
আদালত ও নির্যাতিতার পরিবারের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিবিআই-এর সিট। শিয়ালদহ কোর্টে তিন পাতার স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে নতুন তদন্তকারী অফিসার সন্দীপনি গর্গ স্বশরীরে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তদন্তে পূর্ণ ভরসা রাখার অনুরোধ জানান। সাবেক তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজার ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল— মূল অপরাধী ও প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রকারীদের আড়াল করতে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে চরম অবহেলা দেখানো হয়েছে। তবে নতুন অফিসার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং সব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার আশ্বাস মিলতেই ন্যায়ের আলো দেখার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় নব্য রাজ্য সরকারের ওপর ভরসা ব্যক্ত করেছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। নবান্নে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে বিধানসভায় একসাথে চারজন প্রভাবশালী আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করে নিরপেক্ষ তদন্তের কড়া বার্তা দিয়েছেন, তাতে পূর্ণ আস্থা রাখছেন তাঁরা। পরিবারের অটল বিশ্বাস— বিগত সরকারের লালফিতের ফাঁস ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা অতিক্রম করে, নতুন রাজ্য সরকারের কড়া নজরদারি ও সদিচ্ছার কারণেই এবার আরজি করের অভয়া শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাবে। তো তোষণ ও তদন্ত থামিয়ে দেওয়ার পুরনো চক্রান্তকে ব্যর্থ করে, তিলোত্তমার বিচার সুনিশ্চিত করতে সিবিআই-এর ওপর আদালত ও সাধারণ মানুষের এই অভূতপূর্ব চাপ সত্যিই এক নজিরবিহীন আইনি প্রক্রিয়ার রূপরেখা তুলে ধরেছে।
