দমদমের ডায়মন্ড প্লাজার উল্টোদিকে একটি খাবারের দোকানের সামনে নজরে আসে বিতর্কিত ওই প্ল্যাকার্ড। ছবিতে দেখা যায়, দেবী দুর্গা গণেশকে মটন বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছেন। আর গণেশের ছবির পাশে লেখা, “দেখেই জিভে জল আসছে।” এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আপত্তি জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে যুক্ত দেবদেবীর ছবি কি এভাবে আমিষ খাবারের প্রচারে ব্যবহার করা যায়? স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই ধরনের ছবি তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আর সেই অভিযোগ থেকেই দোকানের সামনে জমতে শুরু করেন এলাকার মানুষজন।
বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন দোকানের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। রিসেপশনে থাকা ব্যক্তিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “তার কর্মচারীরা এমন কাজ করেছে।” তিনি নিজেও একজন হিন্দু বলে জানান। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এরপর বিতর্কিত ওই প্ল্যাকার্ড যেখানে যেখানে লাগানো হয়েছিল, সেগুলি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়। ঘটনাটি প্রথম নজরে আনেন সমাজসেবী অভিজিৎ দাস। তাঁর দাবি, সকালে গাড়ি করে যাওয়ার সময় হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে এই প্ল্যাকার্ড।
এরপরই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে। একটি খাবারের দোকানের বিজ্ঞাপন আকর্ষণীয় করতে যদি ধর্মীয় চরিত্রকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটিকে কি শুধুই বিজ্ঞাপনী কৌশল হিসেবে দেখা হবে? নাকি এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম দমদমের ডায়মন্ড প্লাজা এলাকা। বিক্ষোভকারীদের একাংশের বক্তব্য, দেবদেবীর ছবি নিয়ে এ ধরনের ব্যবহার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের নতুন প্রশ্নও তৈরি হতে পারে। ঘটনার পর বিতর্কিত প্ল্যাকার্ডগুলি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
