বছরে মাত্র একটি দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যখন ইদের পবিত্র নমাজ পড়ার জন্য কিছু ঘণ্টার জন্য রাস্তায় নামেন, তখন এই গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক নেতাদের অমঙ্গলের গেল-গেল রব ওঠে! সাধারণ মানুষের যানজট আর ভোগান্তি নিয়ে তখন তাঁদের ভণ্ডামিমার্কা কুম্ভীরাশ্রুর যেন শেষ থাকে না। অথচ, সেই একই বিজেপি দল নিজেদের রাজনৈতিক পেশি প্রদর্শন আর আড়ম্বরের জন্য যখন কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ রাস্তা রেড রোডকে টানা পাঁচ দিন ধরে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখে, তখন কোথায় উবে যায় তাঁদের সেই তথাকথিত জনদরদি নীতি? স্বৈরাচারী বিজেপি সরকারের এই নগ্ন, কদর্য দ্বিচারিতা আর অসভ্য রাজনৈতিক আস্ফালনে এখন চরম নাজেহাল খাস কলকাতার সাধারণ নাগরিকরা!
আশ্চর্যের বিষয় হলো, নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহের মতো কোনো কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বই নাকি এই মহালয়ার অনুষ্ঠানে আসছে না! অর্থাৎ মোদি-শাহ ছাড়াই বিজেপি নেতাদের এই মেগা আয়োজন আক্ষরিক অর্থেই এক চরম ‘ফ্লপ শো’তে পরিণত হতে চলেছে। আর স্রেফ এই জৌলুসহীন, দিশাহীন আর অর্থহীন ‘ফ্লপ শো’-এর ঢোল পেটাতে এবং প্যান্ডেলের প্রস্তুতি সারতে গোটা শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রাস্তাকে পাঁচ-পাঁচটা দিন স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে! জনগণের করের ১৬৭ কোটি টাকা স্রেফ হাওয়ায় উড়িয়ে ইডেনের অনুষ্ঠান ও প্যান্ডেল সাজানোর নামে যে তাণ্ডব বিজেপি চালাচ্ছে, তা নিয়ে আজ পুরো শহরজুড়ে ধিক্কার ও তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
ইদের নমাজের দিনে আধঘণ্টার জন্য রাস্তা সাময়িক বন্ধ থাকলে যেসব গেরুয়া নেতা ধর্মীয় মেরুকরণ আর বিষোদগার করতে মুখিয়ে থাকেন, আজ তাঁদের আদেশে পুরো মধ্য কলকাতা অচল! অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া, বা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছোটো জরুরি গাড়ি—সবাই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে দম বন্ধ পরিস্থিতিতে নাজেহাল হচ্ছেন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি পাবলিক স্পেস ও প্রধান সড়ককে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করার এই যে নির্লজ্জ স্বৈরাচারী মানসিকতা, এটাই হলো বিজেপির আসল পচাগলা চেহারা!
যে দলটা কথায় কথায় সুশাসন, শৃঙ্খলার বুলি আওড়ায় আর অন্য ধর্মের রীতিনীতি দেখলে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়, সেই বিজেপির নিজের ইভেন্টের নামে শহরের প্রাণকেন্দ্রকে পাঁচ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করার এই একনায়কতান্ত্রিক ফতোয়া তাঁদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে দিল। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়ার এই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি সুস্থ রাজনীতির চরম পরিপন্থী। সংখ্যালঘুদের ইদের নমাজ নিয়ে যাঁরা সস্তা রাজনীতি করেন, তাঁদের এই ১৬৭ কোটির দেউলিয়া ‘ফ্লপ শো’ আর জনভোগান্তির জঘন্য ইতিহাসকে বাংলার সচেতন মানুষ কিন্তু খুব ভালোভাবেই হিসাব কষে রেখে দিচ্ছে, আর সঠিক সময়ে এই স্বৈরাচারীদের যোগ্য জবাব দেবে!
