দেশজুড়ে মহা আড়ম্বরে ও উৎসবের আবহে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। আর এই স্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণে এক অভূতপূর্ব নজির গড়ে দেখাল উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগর। জেলার সমস্ত পতাকাত্তোলনের রেকর্ড ভেঙে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় উড়িয়ে দেওয়া হলো ১০৪ ফুট উচ্চতার সুবিশাল তেরঙ্গা। সম্পূর্ণ বিশেষ ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত ১০৪ ফুটের লৌহস্তম্ভে এই বিশালাকার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এখন থেকে প্রতিদিন এবং প্রতিনিয়ত অশোকনগরের আকাশ ছুঁয়ে সগর্বে ডানা মেলবে দেশের জাতীয় পতাকা, যা দেখা যাবে অশোকনগরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই।
এই ঐতিহাসিক গৌরবময় মুহূর্তটির সাক্ষী ছিলেন এলাকার শত শত মানুষ। স্থানীয় পুর-প্রশাসক স্পষ্ট জানান— এত উঁচুতে এই মাপের জাতীয় পতাকা জেলায় সত্যিই বিরল, যা অশোকনগরের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। তবে কেবল ১০৪ ফুটের তেরঙ্গা উত্তোলনেই থেমে থাকেনি অশোকনগরের উদযাপন, এর পাশাপাশি এক অনন্য পথ নিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে দেখা যায় অশোকনগর ট্রাফিক বিভাগকে।
চৌরঙ্গী মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে আইন মেনে চলা দায়িত্বশীল বাইক চালকদের দেওয়া হয় অভিনব সংবর্ধনা। যে সমস্ত দু’চাকার চালক হেলমেট পরে সঠিক নিয়মে গাড়ি চালিয়েছেন, তাঁদের দাঁড় করিয়ে পুলিশের তরফ থেকে জাতীয় পতাকা উপহার দেওয়া হয় এবং মিষ্টিমুখ করানো হয়। হঠাৎ করে পুলিশ আধিকারিকদের এই ভালোবাসায় অবাক হওয়ার পাশাপাশি যারপরনাই আনন্দিত হন সাধারণ চালকেরাও। ট্রাফিকের এই সুসংবদ্ধ ও সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ জেলা জুড়েই ম্যারাথন দৌড়, কুচকাওয়াজ ও মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো এলাকাকে। তো ১০৪ ফুটের উঁচুতে উড়তে থাকা তেরঙ্গা আজ প্রতিটি নাগরিকের মনে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার পরম তৃপ্তি এনে দিয়েছে।
