দীর্ঘ কাজের চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর লাগাতার মানসিক ধকলের কারণে যে রাজ্য পুলিশের সিংহভাগ কর্মী ও আধিকারিকরা ধীরে ধীরে শারীরিক ফিটনেস হারিয়ে ফেলছিলেন, তাঁদের একদম ফিট ও চাঙ্গা করে তুলতে এবার ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোকে নজর দিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারে ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে, সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নেওয়া পুলিশের ‘নোয়াপাতি ভুঁড়ি’র ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেন তিনি। পুলিশকর্মীদের স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতের কোনো উপযুক্ত পরিবেশ এতদিন ছিল না তা অকপটে স্বীকার করে নিয়ে, প্রতিটি থানা ও ব্যারাকে বিশ্বমানের জিম এবং আধুনিক স্পোর্টস সরঞ্জাম তৈরির বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই তাঁদের জন্য আধুনিক জিমের ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগও সম্পূর্ণ সরকারি খরচে করে দেওয়া হবে। কেবল স্বাস্থ্যই নয়, রাজ্য পুলিশের করুণ ও জরাজীর্ণ পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় নেওয়া হচ্ছে একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। রাজ্যের মোট ৫৫২টি থানার মধ্যে যে প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোটি থানায় পানীয় জল, আলো বা স্থায়ী ব্যারাকের মতো ন্যূনতম সুবিধা ছিল না, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদনে সেই সমস্ত থানার শতভাগ আধুনিকীকরণ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতি আনতে পুলিশের প্রায় ৪,০০০টি জরাজীর্ণ পুরোনো গাড়ি বদলে দিয়ে অত্যাধুনিক নতুন গাড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি গাড়িতে ইন্স্যুরেন্স, বডি ক্যামেরা এবং প্রতিটি থানায় সিসিটিভির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজের বাড়ি থেকে দূরে থাকা পুলিশকর্মী ও মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের তাঁদের সুবিধাজনক এলাকায় বা ঘরের কাছের থানায় বদলির সুব্যবস্থাও সুনিশ্চিত করেছে নব্য সরকার। তো বিগত জমানার অবহেলা ও পরিকাঠামোগত জরাজীর্ণতাকে চিরতরে ধুয়ে-মুছে সাফ করে, রাজ্য পুলিশকে এক সম্পূর্ণ আধুনিক, স্মার্ট, শারীরিকভাবে ফিট এবং সুশাসিত বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সত্যিই এক উন্নত ও নিরাপদ বাংলার নতুন রূপরেখা তৈরি করছে।