দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মতপার্থক্য এবং স্থবিরতায় আচ্ছন্ন টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। ফেডারেশন ও কনফেডারেশনের ঝামেলা চিরতরে মেটাতে এবং টালিউডে সুস্থ কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার নন্দনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গাঙ্গুলিকে পাশে নিয়ে সভার শুরুতেই মিঠুন চক্রবর্তী কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন— পিছনের দরজা দিয়ে ‘সিলেকশন’ বা মনোনীত হওয়ার দিন শেষ, এবার থেকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ইলেকশন’।
বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আগামী ১লা অক্টোবর এবং ১লা নভেম্বর— এই দুই দফায় ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেন মিঠুন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং টলিপাড়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে বৈধ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কার্ড না থাকলে ভবিষ্যতে কাউকেই কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মুম্বইয়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে টেকনিশিয়ান ও ট্রেড ইউনিয়ন সামলানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি বাংলায় কাজের পরিধি বাড়াতে চান। ভিনরাজ্যের প্রযোজকেরা যাতে বাংলায় এসে শুটিং করেন, তার জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
টলিপাড়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে শিল্পীদের দীর্ঘদিনের যে ক্ষোভ ছিল, তাতেও প্রলেপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মহাগুরু। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন— নতুন করে গিল্ড ও ফেডারেশন গঠিত হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো সরকারি বা রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ থাকবে না। আর এই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজেই পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। অতীতে যাঁরা অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তো মিঠুন চক্রবর্তীর এই মেগা মাস্টারস্ট্রোকের পর টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের জট কেটে নতুন আলোর মুখ দেখে কিনা, সেটাই এখন দেখার।
