আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বাদ পড়াদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ আসছে, জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেননা, গ্রাম-শহরের নির্দিষ্ট শ্রেণি ও সত্তরোর্ধ্বরাই পাবেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা, বাকিদের জন্য রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যবিমা। পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের হাত ধরে ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অতীত হতে চলেছে সকলের জন্য পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’। কিন্তু আয়ুষ্মান চালু হলেও তার সুবিধা সব নাগরিক পাবেন না। কারণ, এটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প নয়। গ্রাম–শহর নির্বিশেষে সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তির বাইরে, কেবলমাত্র নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ও পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়। ফলে রাজ্যের বহু মানুষ এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। তাঁরা আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন।গ্রামে কারা পাবেন আয়ুষ্মান?
▪️গ্রামীণ এলাকায় ২০১১–র সামাজিক-অর্থনৈতিক ও জাতিগত জনগণনা-র ভিত্তিতে চিহ্নিত দরিদ্র ও বঞ্চিত পরিবারগুলি আয়ুষ্মানের সুবিধা পাবেন
▪️এর মধ্যে রয়েছে এক কক্ষবিশিষ্ট কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, ভূমিহীন দিনমজুর, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যবিহীন পরিবার এবং কেন্দ্র নির্ধারিত অন্যান্য বঞ্চিত শ্রেণি
▪️পরিবারে ১৬–৫৯ বছর বয়সি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নেই অথবা মহিলা প্রধান পরিবার, যেখানে ১৬–৫৯ বছর বয়সি কোনও পুরুষ সদস্য নেই, তাঁরাও পাবেন
▪️তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরিবার, গৃহহীন পরিবার, ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল পরিবার, সাফাইকর্মী ও আদিম জনজাতি গোষ্ঠীভুক্ত পরিবারও আয়ুষ্মান পাবেন
শহরে কারা পাবেন আয়ু্ষ্মান?
▪️শহরাঞ্চলে নির্দিষ্ট ১১টি পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় পড়ে
▪️যেমন সাফাইকর্মী, গৃহপরিচারক ও গৃহপরিচারিকা, রাস্তার হকার, রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিক, কলের মিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, নিরাপত্তারক্ষী, পরিবহণ ও অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমজীবী পরিবার
▪️জঞ্জাল সংগ্রহকারী, গিগ ওয়ার্কার, স্যানিটেশন ওয়ার্কার, দর্জি বা কারুশিল্প কর্মী এবং ছোট দোকানের সহায়ক কর্মী
▪️সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকরাও আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসবেন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের নাম কেন্দ্রের নির্ধারিত সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছে কি না, দেখতে হবে। যোগ্যতা ও নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সরকারি আয়ুষ্মান ভারত পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপ, কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) বা সরকারি হাসপাতালের ‘আয়ুষ্মান মিত্র’ ডেস্কের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। নাম তালিকায় থাকলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচয় যাচাই-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা করলেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড মিলবে।
যাঁদের পরিবার এসইসিসি-র বঞ্চিতদের তালিকায় নেই, যাঁরা শহরের নির্ধারিত ১১টি পেশার কোনওটির সঙ্গে যুক্ত নন এবং ৭০ বছরের কম বয়সি সাধারণ মধ্যবিত্ত বা অন্যান্য পরিবার তাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় পড়বেন না। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ পরিবারই কেন্দ্রীয় ওই প্রকল্পের বাইরে থেকেই যাবে। আয়ুষ্মান সকলে পাবেন না বলেই এই পরিস্থিতিতেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ প্রকল্প চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, তাতেও পরিবারপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে, যেমন আগে স্বাস্থ্যসাথীতে ছিল।
তবে এখনো পর্যন্ত জানানো হয়নি, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমার জন্য আবেদন করা যাবে? যাঁরা স্বাস্থ্যসাথীতে ছিলেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয় ভাবে নতুন এই প্রস্তাবিত মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমায় ট্রান্সফার হয়ে যাবে, নাকি তাঁদের ফ্রেশ অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারি তরফে।