Suvendu Sarkar has formulated a groundbreaking land policy to bring world-class industry to Bengal!

বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের শিল্প আনতে শুভেন্দু সরকারের যুগান্তকারী জমি নীতি তৈরী!

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ইতিহাসে এক নতুন, সোনালী ও গৌরবময় যুগের সূচনা করে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক জমি নীতির ঘোষণা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। একসময় এই বাংলার বুকেই শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এবং তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সুদীর্ঘ ১৫ বছরের ‘সরকার শিল্পের জন্য জমি ছোঁবে না’ গোছের জেদ ও অপরিণামদর্শী নীতি এ রাজ্যে শিল্পায়নের দরজায় কার্যত যে স্থায়ী তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল, সিঙ্গুর আন্দোলনের ঠিক ২০ বছর পর সেই সমস্ত জং ধরা ও অনুন্নত ধ্যানধারণাকে রাতারাতি বদলে দিয়ে এক ঐতিহাসিক উলটপুরাণ ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ঠিক দুই মাসের মাথায়, এক অতন্ত্য দূরদর্শী, আধুনিক ও প্রগতিশীল জননেতার মতো শনিবার ডানকুনিতে এক হোসিয়ারি সংস্থার মেগা ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের নতুন জমি নীতি নিয়ে এক যুগান্তকারী ও মাস্টারস্ট্রোক ঘোষণা করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত শুধু বাংলায় দেশী-বিদেশী লগ্নির বন্যাই ডেকে আনবে না, বরং তা লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের এক নিশ্চিত গ্যারান্টি প্রদান করছে।

ডানকুনির এই ঐতিহাসিক লগ্নির মঞ্চ থেকে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্বতন সরকারের মতো বর্তমান সরকার জমির পুরো বিষয়টি শুধু শিল্পপতিদের ওপর ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। কারণ, সমস্ত বিষয় ফড়ে আর দালালদের হাতে ছেড়ে দিলে তোলাবাজি বাড়ে, দাদাগিরি বাড়ে এবং কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়। আর এই সমস্যাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে শুভেন্দু সরকার ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে রাজ্যে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবার থেকে সংস্থাগুলিকে সরাসরি কিনে দেবে রাজ্য সরকারই।

মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ঠিক যেভাবে দেশের সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্তে বিএসএফ-কে সরকার জমি দেয়, ঠিক যেভাবে রেল বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে জমি কিনে দেওয়া হয়, একইভাবে এখন থেকে বেসরকারি বড় বিনিয়োগকারীদেরও সমস্ত রকম আইনি সুবিধা দিয়ে সরকার নিজেই জমি কিনে হস্তান্তর করবে। ২০১৩ সালের জমি কেনার নীতিকে পূর্ণ মান্যতা দিয়ে শহরের জমি হলে বাজার মূল্যের দ্বিগুণ এবং গ্রামীণ এলাকার জমি হলে বাজার মূল্যের চারগুণ পর্যন্ত সঠিক দাম ও পুনর্বাসন দিয়ে জমির মালিকদের অধিকারও ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত রাখবে এই জনমুখী সরকার, যাতে বাংলার বুকে আর কোনো দিন সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

শিল্পায়নের পথে লাল ফিতের ফাঁস এবং স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি চিরতরে দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি অত্যন্ত সাহসী ও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, বিগত দিনে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, কর্পোরেশন কিংবা পঞ্চায়েত সমিতিগুলো ছিল মূলত দুর্নীতি ও দাদাগিরির আখড়া, যেখানে শিল্পপতিদের দিনের পর দিন হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে হতো। এই জুলুমবাজি বন্ধ করতে এবার থেকে রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে বেসরকারি বিনিয়োগ হলে কোনো স্থানীয় অনুমতির প্রয়োজন হবে না, বরং সরাসরি রাজ্য স্তরের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা’-র মাধ্যমে সেন্ট্রালি সমস্ত ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি, বিনিয়োগের গতি বাড়াতে ১৯৭৬ সালের আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্টের সাড়ে ৭ কাঠার প্রাচীন আইনি গেরোটিও সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু সরকার, যার ফলে এখন বড় লগত বা মেগা প্রজেক্টের পথ সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক হলো। সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি এবং ব্যবসা—এই ত্রিমুখী কর্মসংস্থান তৈরি করে বাংলাকে আবার বিনিয়োগে সারা ভারতের মধ্যে এক নম্বর স্থানে বসাতে এবং বেকারত্বকে চিরতরে দূর করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক সত্যিই এক নতুন, উন্নত ও আত্মনির্ভর বাংলার অনন্য দিশা দেখাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *