রাজ্যে ভোট, আর তার আগেই দিকে দিকে এক দল আরেক দলকে বাক্যবাণে বিঁধতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এমন আবহে জলপাইগুড়িতে মমতার বিরুদ্ধে স্লোগান তুললেন বিজেপি সংখ্যা মোর্চার সহ-সভাপতি মোতি-উর রহমান। হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মতামত ভাগ করে নিলেন তিনি। তার দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে সনাতনী হিন্দুরা আজ আক্রান্ত।” হ্যাঁ, সম্প্রতি একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা মতিউর রহমান। তার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোষণ নীতি অবলম্বন করছেন। যার ফলে রাজ্যে ধর্মীয় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সনাতনী হিন্দুরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিন মোতি-উর রহমান বলেন, “আজ বাংলায় হিন্দুদের উৎসবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ অন্য ক্ষেত্রে সরকার নীরব। সনাতনীরা আজ নিজভূমে পরবাসী হওয়ার উপক্রম। আমি একজন মুসলমান হয়ে বলছি, এই বাংলায় হিন্দুদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তা আর সহ্য করা যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য জিহাদি মানসিকতার লোকেদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল সরকার মনে করছে কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট পেলেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, এই মাটি বীর সন্ন্যাসী ও বিপ্লবীদের মাটি। সনাতনীরা জেগে উঠলে আপনাদের গদি উল্টে যাবে।”
এখানেই না থেমে ওই বিজেপি নেতা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “পুলিশ আজ ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। যখন হিন্দুদের ওপর হামলা হয়, তখন পুলিশ নীরব থাকে। কেন এই বৈষম্য? আমরা কি এই বাংলা চেয়েছিলাম, যেখানে ধর্ম দেখে বিচার হবে?”
না, এই অভিযোগ নতুন নয়! কারণ বহুদিন ধরেই বিজেপি অভিযোগ করে চলেছে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয়। কিন্তু যখন মোতি-উর রহমানের মতো একজন সংখ্যালঘু নেতা এই দাবি তোলেন, তখন তার রাজনৈতিক গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ ঘটনা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, বিজেপির একটি কৌশল হতে পারে এমন বক্তব্য। যা প্রমাণ করছে, কেবল হিন্দুরাই নয়, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিমরাও মনে করেন রাজ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এদিন বিজেপি ওই নেতার গলায় রামনবমী থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন শোনা গিয়েছে। তিনি নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের কাজ। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। যার জেরে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
বিজেপি-র এই মুসলিম নেতা এদিন বাংলার প্রতিটি মুসলিম ভাইকে অনুরোধ করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন। কারণ যারা আজ হিন্দুদের ঘর জ্বালাচ্ছে, তারা একদিন আপনাদেরও ছাড়বে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে বাংলাদেশের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপি কোনো ধর্মের বিরোধী নয়, বিজেপি কেবল সত্যের পক্ষে। আমরা চাই এই রাজ্যে প্রতিটি মানুষ, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, সকলে যেন শান্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই শান্তি নষ্ট করছে। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের সরকার হয়ে উঠছেন।” তবে, মোতি-উর রহমান তার বক্তৃতাতে নিজেকে একজন মুসলমান নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বর্তমান সরকারের শাসনে সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য যে নষ্ট হচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী তৃণমূলের “একপাক্ষিক” রাজনীতি সে কথাই এদিন স্পষ্ট সকলকে বুঝিয়ে দিলেন। এক কথায় তার এই “হুঙ্কার” বুঝিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার আসলে “হিন্দু-বিরোধী” এক সরকার হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
