পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কাউকে স্পষ্টভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, লড়াইটা এবার যে বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বিভিন্ন সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জিতলে নেতৃত্বে কে?
বিশ্লেষকরা বলছেন শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনেকের নজরে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে, যা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করেন, বিজেপি জিতলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে অন্যতম দাবিদার হতে পারেন।
অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পাল-এর মতো নেত্রীর নামও উঠে আসছে আলোচনায়। তিনি দলের আগ্রাসী মুখ হিসেবে পরিচিত এবং মহিলা ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারেন। যদিও অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি তুলনামূলক নতুন, তবুও দলের ভেতরে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে। তাই তাঁকেও সম্ভাব্য মুখ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
এছাড়াও শান্তনু ঠাকুরের মতো নেতাদের নামও ঘোরাফেরা করছে। বিশেষ করে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে শান্তনু ঠাকুরের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সামাজিক সমীকরণ মেলাতে বিজেপি এই ধরনের নেতাদেরও সামনে আনতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেই।
বিজেপি কেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা করছে না, সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, দলটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মুখেই ভোট চাইতে চায়। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ-এর জনপ্রিয়তাকেই তারা প্রধান ভরসা হিসেবে দেখছে। এতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও কিছুটা এড়ানো যায়।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়ছেন। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল কংগ্রেসও এই বিষয়টিকে প্রচারে ব্যবহার করছে তাদের মতে বিজেপির নির্দিষ্ট নেতৃত্ব নেই। ফলে এই ইস্যুটি ভোটে প্রভাব ফেলতেই পারে।
তবে বিজেপির কৌশল একটু আলাদা। তারা আগে জয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, পরে নেতৃত্ব ঠিক করবে এমন ইঙ্গিতই বারবার পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সময় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় বিধায়করা বৈঠক করে নেতা নির্বাচন করেন। বিজেপিও সেই পথেই হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক নেতার নাম ঘুরছে চর্চায়। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। ৪ মে ফল ঘোষণার পরই এই জল্পনার অবসান হবে, আর তখনই পরিষ্কার হবে কার হাতে উঠছে বাংলার সিংহাসন?
