ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে বিলবোর্ড ভাঙাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার আরও জটিল আকার নিল। ঘটনার জেরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে তলব করেছে শেক্সপিয়র সরণী থানার পুলিশ। পুলিশের এই পদক্ষেপের পরই পালটা আইনি পথে জবাব দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।
ঘটনার সূত্রপাত ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের অফিসে থাকা একটি বিলবোর্ডকে ঘিরে। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ ওই অফিসে গিয়ে বিলবোর্ডটি ভাঙার চেষ্টা করে। সেই সময় দলের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাধা ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও সামনে আসে। এরপরই ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে থানায় ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।
তবে পুলিশের নোটিশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে তৃণমূল শিবির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগ জানিয়েছেন, অনলাইন এফআইআর আপলোড না করেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেই কারণেই অভিষেকের তরফে পালটা নোটিশ পাঠিয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এফআইআরের কপি অনলাইনে প্রকাশ না করে তদন্তের জন্য নোটিশ পাঠানো হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, অনলাইন এফআইআর প্রকাশ না করে এই ধরনের নোটিশ পাঠানো আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের সঙ্গেও জুড়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, যে ভবনে দলের অফিস রয়েছে, সেখানেই হলদিরামের একটি শোরুম এবং তার বিলবোর্ডও রয়েছে। অথচ ওই বিলবোর্ড নিয়ে একই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছে দল। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্দিষ্টভাবে তাদের অফিসের বিলবোর্ডকে লক্ষ্য করেই প্রশাসনের এই তৎপরতা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও দলের তরফে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিলবোর্ড সংক্রান্ত পদক্ষেপ করতে গিয়ে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকেরা অফিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কর্মীরা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনাতেই পরবর্তীতে নেতাদের তলব করা হয়েছে বলে দাবি দলের।
এখন পুলিশের তলব এবং তৃণমূলের পালটা আইনি পদক্ষেপের ফলে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে পুলিশ ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে, অন্যদিকে নোটিশের বৈধতা এবং এফআইআর প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল শিবির।
তবে এই ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনলাইন এফআইআর সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।
ফলে একটি বিলবোর্ড ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের দিকেও এগোচ্ছে। পুলিশের তলবের জবাবে পাঠানো পালটা নোটিশের পর আগামী দিনে এই ঘটনা কোন পথে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।
