আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে তেরঙা পতাকার গরিমা বৃদ্ধি করে দেশকে গর্বিত করা এশিয়ান গেমসের বীর নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে এক আবেগঘন ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির ঐতিহাসিক মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মাননা পর্বে উপস্থিত ছিলেন শুধু পদকজয়ী খেলোয়াড়রাই নন, ছিলেন তাঁদের নেপথ্য কারিগর— সমস্ত কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও ফেডারেশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। হাসি, গল্প আর আন্তরিক ভাব বিনিময়ের মাঝে ক্রীড়াবিদরা নিজেদের স্মারক উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে, যা এক অনন্য সৌহার্দ্যের মুহূর্ত তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ব্যক্তিগত গল্ফে ভারতের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী তরুণী প্রণবী উর্স প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন তাঁর ব্যবহৃত গল্ফ গ্লাভস ও একটি গল্ফ বল। তিরন্দাজিতে জোড়া সোনা ও একটি রুপোর পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা কুমকুম মহোড় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ঐতিহ্যবাহী শাঁস ও অলংকরণে সুসজ্জিত একটি বিশেষ কাঠের ধনুক। অন্যদিকে, পুরুষদের সফট টেনিস সিঙ্গলসে দেশের হয়ে প্রথম ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ এনে দেওয়া জয় মীনা উপহার দেন তাঁর প্রিয় র্যাকেটটি। ভারতীয় হকি দলের তারকা অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং উপহার দেন গোটা দলের সই সংবলিত টিম ইন্ডিয়ার জার্সি। পাশাপাশি ১৯৮২ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডে সোনা জিতে ইতিহাস গড়া মহিলা হকি দলের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ করা কমলা জার্সি এবং একটি হকি স্টিক।
ক্রিকেটের ময়দানে মহিলা দল নিজেদের শিরোপা ধরে রেখে সোনা জিতেছে। আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মধ্যেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যরা। পরদিনই ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও হরমনপ্রীত কৌররা যেমন হাজির ছিলেন, তেমনই চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাঝে এই মঞ্চে উপস্থিত হন শ্রেয়স আইয়ারের মতো তারকা ক্রিকেটাররাও।
ক্রীড়াবিদদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন— “আপনারা আপনাদের ঘাম ও পরিশ্রম দিয়ে ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে গর্বিত করেছেন। বিশ্বমঞ্চে ভারতের জাতীয় পতাকা সগর্বে ওড়ানোটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই এই জয় শুধু আপনাদের একার নয়, গোটা দেশের কোটি কোটি মানুষের।” একই সাথে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন— “স্বপ্ন একদিনে সত্যি হয় না। বিগত ১২ বছর ধরে ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে নিরবচ্ছিন্ন উন্নতির চেষ্টা চলছে, আজ তারই ফসল পাচ্ছে দেশ। ভারত আজ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। আর সেই লক্ষ্যেই ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স ভারতে আয়োজন করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও মরিয়া।”
হাংঝু এশিয়ান গেমসের মতোই এবারও তিরন্দাজি, কুস্তি, বক্সিং, ক্রিকেট, কবাডি ও হকিতে চোখধাঁধানো সাফল্য দেখিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানটি ধরে রেখেছে ভারত। ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে দিল— জয়ের আনন্দে দেশনায়কের এই সান্নিধ্য ও উৎসাহ আগামী দিনে ২০৩৬-এর অলিম্পিক মঞ্চেও ভারতের পদক জয়ের খিদে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে!
