শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা । সূত্রের খবর, আম আদমি পার্টির আরও ছয় নেতা পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাঘব-সহ তিন আপ সাংসদ। সেখানেই ঘোষণা করেন, আপ ছেড়ে তাঁরা যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। একটা সময়ে শোনা যাচ্ছিল, নিজের আলাদা দল গড়তে পারেন রাঘব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাম লেখালেন নরেন্দ্র মোদিদের দলে। সবমিলিয়ে আপের সাত সাংসদ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।
রাঘব বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ সংবিধানের বিধান প্রয়োগ করে বিজেপির সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করব।আম আদমি পার্টি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন যে রক্ত-ঘাম দিয়ে যে দলের জন্য পরিশ্রম করেছিলেন, তা নিজেদের নীতি থেকে সরে এসেছে। রাঘব বলেন, আম আদমি পার্টির জন্য আমি নিজের যৌবনের ১৫ বছর দিয়েছি। এই দল আজ তার নীতি, মূল্যবোধ থেকে সরে এসেছে। এখন এই দল দেশের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করছে। বিগত কিছু বছর ধরে আমার মনে হচ্ছিল যে ভুল দলে আমি সঠিক ব্যক্তি। তাই আজ, আমরা ঘোষণা করছি যে আমি আপ থেকে দূরত্ব তৈরি করছি এবং জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
বিশ্লেষকরা বলছেন রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা, বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পাওয়া এই ধরনের কারণ অনেক সময় নেতাদের দল পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দেয়। বিজেপি বর্তমানে দেশের ক্ষমতাসীন দল হওয়ায়, সেখানে যোগ দিলে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয় ।
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, পড়াশোনা করেছেন বিদেশেও এই শিক্ষিত, পরিষ্কার ভাবমূর্তি তাঁকে দ্রুতই দিল্লির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ করে তুলবে। তাঁর বক্তৃতা, তথ্যভিত্তিক আক্রমণ এবং মিডিয়ায় উপস্থিতি সব মিলিয়ে তিনি গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারেন খুব শীঘ্রই। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিজেপির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি কৌশলগত লাভ হিসেবেই দেখা হবে। বিরোধী শিবিরের একজন পরিচিত ও মিডিয়া স্মার্ট মুখকে দলে টানা মানে শুধু সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া যে বিজেপি এখনও অন্য দল থেকে প্রভাবশালী নেতৃত্ব আকর্ষণ করতে সক্ষম। বিশেষ করে শহুরে ও শিক্ষিত ভোটারদের কাছে এর আলাদা গুরুত্ব থাকতে পারে।
