নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তাদের মদতপুষ্ট নির্বাচন কমিশনের চরম গণতান্ত্রিক অবক্ষয় ও উগ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন রূপ আবারও প্রকাশ্যে এল। উপনির্বাচনের ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিরোধী শক্তিকে ভয় পাইয়ে স্তব্ধ করতেই বিজেপি যে কতটা জঘন্য ও চক্রান্তমূলক রাজনীতির আশ্রয় নিতে পারে, তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আকস্মিক গ্রেফতারির ঘটনায়। ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের শক্তি দেখে বিজেপি সরকার এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে যে, পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হলো কংগ্রেস প্রার্থীকে। বিজেপির এই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোচ্চার হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাসভবন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে সংহত করতে তারা প্রার্থী তুলে নিচ্ছেন। একইসাথে, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানানোর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নেমে আসে বিজেপির নির্দেশিত রাজনৈতিক খাঁড়া। ১৯ বছর আগের, অর্থাৎ ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একটি পুরোনো ও ধুলোজমা মামলাকে হঠাৎ খুঁড়ে বের করে তড়িঘড়ি গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে।
রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আমজনতা—সবার মুখেই এখন একই প্রশ্ন, হঠাৎ প্রার্থী সমর্থনের খবর আসার সাথে সাথেই কেন ১৯ বছরের পুরোনো মামলায় এই গ্রেফতারি? এই গ্রেফতারির সময়কালই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে যে, নন্দীগ্রামে পরাজয়ের ভয়ে কাঁপতে থাকা বিজেপি নিজেদের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কমিশনকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরতে চাইছে। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই দেখে বিজেপি যে কতটা দিশেহারা, এই আকস্মিক ও চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ তারই অখণ্ড প্রমাণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়ে মমতা স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি প্রতিদিন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে গর্জে উঠে তিনি লেখেন—বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের এই যোগসাজশ আসলে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট লুঠ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করার পরিচিত নীলকন্ঠ চক্রান্ত। বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার ক্ষমতা হারিয়ে বিজেপি এখন আইন ও পুলিশকে নিজস্ব রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে।
শনিবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু বিরোধীদের লড়াইকে থামিয়ে দিতে বিজেপি যেভাবে প্রার্থীকে গ্রেফতার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি করেছে, তা স্বাধীন ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক চরম কালো অধ্যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চক্রান্ত করে, ভয় দেখিয়ে বা পুরোনো মামলায় ফাঁসিয়ে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক হেনস্থা করা গেলেও, নন্দীগ্রামের সচেতন মানুষ বিজেপির এই স্বৈরাচারী ও জনবিরোধী রাজনীতির যোগ্য জবাব ইভিএম বাক্সেই দেবে।
