মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের লড়াই আর নাগরিকত্বের স্বপ্নে এবার সিলমোহর দিতে চলেছে বিজেপি সরকার! বাংলাদেশি নথিপত্র না থাকলেও এবার সরাসরি সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে আবেদন করা যাবে। মতুয়া ভাই-বোনদের সমস্ত সংশয় আর আতঙ্ক দূর করে এই ঐতিহাসিক ও মেগা আশ্বাস দিলেন খোদ কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এই ঘোষণার পর খাস উত্তর ২৪ পরগনা ও মতুয়াদের মহলে আনন্দের জোয়ার বয়ে গেছে। নথির জটিলতা কাটাতে শুভেন্দু সরকার এবং মোদী সরকার ঠিক কী নতুন পথ বের করছে?
একটু পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারবেন, কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার বছরের পর বছর ধরে মতুয়া সমাজকে ধোঁকা দিয়ে এসেছে। সিএএ পাস হওয়ার পর পিসি-ভাইপোর চোর-বাহিনী মতুয়াদের মনে এনআরসি আর ডিটেনশন সেন্টারের মিথ্যে ভয় ঢুকিয়ে ভোট লুঠের নোংরা খেলা খেলেছিল। তৃণমূল সরকার চাইত না যে, বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা এই হিন্দু উদ্বাস্তুরা ভারতে সম্মানের সাথে নাগরিক হিসেবে বাঁচুক। আর সেই কারণেই সিএএ পোর্টাল খোলার পরেও বাংলাদেশি নথির জটিলতাকে সামনে রেখে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করেছিল তৃণমূলের আইটি সেল।
কিন্তু বিজেপি সরকার উদ্বাস্তু মতুয়াদের সেই বুকফাটা কান্না বোঝে। বনগাঁয় তপশিলি মোর্চার একটি অনুষ্ঠানে এসে শান্তনু ঠাকুর সেই সমস্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যারা ওপারে জমি-জায়গা হারিয়ে, রাতের অন্ধকারে স্রেফ এক কাপড়ে ও খালি পায়ে প্রাণ বাঁচাতে এপারে পালিয়ে এসেছিলেন। যাদের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের পক্ষে আজ বাংলাদেশের নথিপত্র জোগাড় করা কীভাবে সম্ভব? এই বাস্তব ও মানবিক সমস্যাটি বুঝতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শান্তনু ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, নথির অভাবে ফর্ম পূরণ আটকে থাকার এই সমস্যা আগামীতে আর থাকবে না। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভিন্ন রেজিস্টার্ড সংস্থার মাধ্যমে ‘সার্টিফিকেশন’-এর ব্যবস্থা করছে, যাতে কোনো বিদেশি নথি ছাড়াই ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—প্রত্যেকেই বরাবর মতুয়া সমাজের অধিকারের পক্ষে সরব হয়েছেন। আর এখন বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই কাজ আরও দশ গুণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। শান্তনু ঠাকুর নিজেই বলেছেন, আগে রাজ্যের তৃণমূল সরকার পদে পদে অসহযোগিতা করত বলেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হতো। কিন্তু এখন নবান্নে শুভেন্দুজীর জাতীয়তাবাদী সরকার বসে রয়েছে, যার ফলে উদ্বাস্তু পুনর্বাসন এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার এই পবিত্র কাজে প্রশাসন এখন দিনরাত এক করে খাটছে।
শুভেন্দু সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলেও কোনো মতুয়া বা হিন্দু উদ্বাস্তুকে এই মাটি থেকে কেউ তাড়াতে পারবে না। পিসি-ভাইপোর তোষণ আর জালিয়াতির রাজত্ব খতম করে, আজ হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের পুণ্যভূমিতে প্রকৃত ন্যায় এবং সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে বিজেপি সরকার। কারণ মতুয়ারা এদেশের অতিথি নন, তাঁরা এদেশেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আপনার কী মনে হয়? বাংলাদেশি নথি ছাড়াই মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ কি বাংলার বুকে তৃণমূলের তোষণের রাজনীতিকে চিরতরে কবর দেবে? জানান আপনার মতামত।
