সনাতন হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা’ বা নোংরা বলে অপমান করার মাশুল এবার গুনতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! ভোটের লোভে আর মুসলিম তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে যারা কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন খোদ এক আইনজীবী। রেড রোডের ঈদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিন্দুদের প্রাচীন পবিত্র ধর্মকে প্রকাশ্য অবমাননা করার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় দায়ের হলো এফআইআর! ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫টি মারাত্মক ধারায় ফেঁসে গেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে?
আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে হিন্দু ধর্ম মানেই যেন একটা সফট টার্গেট। গত বছর রেড রোডের ঈদের পবিত্র মঞ্চকে স্রেফ রাজনৈতিক বিষ উগরে দেওয়ার আখড়া বানিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে খুশি করতে এবং নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে তিনি সীমা লঙ্ঘন করেন। বক্তব্য রাখতে রাখতে তিনি তীব্র হিন্দু বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে বলে বসেন—‘‘জেনে বুঝে একটা নোংরা ধর্ম যেটা এই জুমলা পার্টি বানিয়েছে, সেই ধর্ম আমি মানি না।’’ নিজের রাজনৈতিক শত্রু বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে কোটি কোটি মানুষের আরাধ্য সনাতন ধর্মকে ‘নোংরা’ এবং ‘গন্দা’ বলতে একটুও বুক কাঁপেনি ওঁর!
তৃণমূল নেত্রীর এই চরম হিন্দু-বিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধেই এবার আইনি পথে যোগ্য জবাব দিয়েছেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা তথা আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তিনি শিলিগুড়ি সাইবার থানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রিঙ্কি দেবীর সাফ কথা—বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের শাসকদলের বহু উচ্চপদস্থ নেতা-মন্ত্রীরা প্রতিনিয়ত হিন্দু দেব-দেবী ও সনাতন ধর্মকে আক্রমণ করেছেন। আর সর্বস্তরের সীমা পার করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী একটি ধর্মীয় মঞ্চ থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের অনুভূতিতে ধাক্কা দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ধারাগুলো লাগিয়েছেন, সেগুলো অত্যন্ত কঠোর। শান্তি ভঙ্গ এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের জন্য ৩৫২ নম্বর ধারা, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর মন্তব্যের জন্য ৩৫৩ নম্বর ধারা, মানহানির জন্য ৩৫ নম্বর ধারা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত বিদ্বেষমূলক কাজের জন্য ২৯৯ নম্বর ধারা সহ মোট ৫টি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরে এখন চরম চাঞ্চল্য তৈরি হলেও, দলের কোনো নেতা মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হিন্দু-বিরোধী বয়ানের বিরুদ্ধে প্রথম দিন থেকেই বুক চিতিয়ে লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দুজী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—বাংলায় তোষণের দিন এবার শেষ। ঈদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিন্দুদের গালমন্দ করা আর দুর্গাপুজো বা বিসর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর যে একনায়কতন্ত্র পিসি-ভাইপো চালাতেন, নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে তা উপড়ে ফেলা হবে। মোদী-শুভেন্দুর জমানায় বাংলায় আর কোনো তোষণকারী শক্তি সনাতন ধর্মকে অপমান করে পার পাবে না।
আপনার কী মনে হয়? ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা’ বলা নেত্রীর বিরুদ্ধে আইনজীবীর এই FIR কি আসলেও বাংলার মাটিতে তোষণের রাজনীতিকে চিরতরে স্তব্ধ করবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।
