সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সারতে কঠোর থেকে কঠোরতম হয়ে উঠছে নির্বাচন কমিশন। আর এর জেরেই জারি হচ্ছে একাধিক নির্দেশিকা। সেই মতো প্রথম দফার দিন দুয়েক আগেই ফের নয়া নির্দেশিকা জারি করলো নির্বাচন কমিশন। যেখানে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়র থেকে ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশদের নিয়ে কমিশন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশিকা জারি করেছে। তাদের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটের ৩ দিন আগেই ‘রিজার্ভ লাইনে’ পাঠিয়ে দিতে হবে বাংলার এই সকল পুলিশদের। মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের কোনোভাবেই যাতে ব্যবহার করা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এমন কড়া নির্দেশ জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে কমিশন। যদিও এ ঘটনা নতুন নয়! কারণ আগেও বহুবার বাংলার ভোটের ক্ষেত্রে এমন নির্দেশিকা জারি করেছিল কমিশন।
অন্যদিকে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো পুলিশের উপস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না। কারণ সেখানে সবটাই নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুধুমাত্র ভোটারদের লাইন নির্ধারণের কাজেই থাকবে পুলিশ বাহিনী। এদিকে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। তাদের প্রায়শই নানা জায়গায় টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, ভোটের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে কাশ্মীরের বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি। যা পশ্চিমবঙ্গে হিংসা-মুক্ত ভোট করাতে নির্বাচন কমিশনের এক বড়ো প্রচেষ্টার উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুরু থেকেই জানা গিয়েছিল, প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আর দ্বিতীয় দফাতেও প্রায় এই সংখ্যক বাহিনী দেওয়া হবে দক্ষিণবঙ্গে। যার মধ্যে অন্তত পক্ষে ২৫০ কোম্পানি বাহিনী শুধু কলকাতার বুথগুলিতেই নিযুক্ত হবেন।
না, এখানেই শেষ নয়, কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পিছু অন্তত হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। এক্ষেত্রে বলে রাখি, ৮ জন জওয়ান নিয়ে তৈরি হয় এক সেকশন বাহিনী। এছাড়া, কোনো ভোট কেন্দ্রে বেশি বুথ থাকলে, সেখানে ২ সেকশন পর্যন্ত বাহিনী থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, ১৬ জন! এর পাশাপাশি ১০ থেকে ১২টি ভোটকেন্দ্র পিছু একটি করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর QRT. থানা পিছু RT মোবাইল এবং HRFS ভ্যান রাখা হবে। আসলে পুলিশের ওপর আর ভরসা করার কোনো রিস্ক নিতে রাজি নয় কমিশন। অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গাইড করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের ওপর। এমনকি, কোথাও গন্ডগোলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জওয়ানরা যাতে অলি-গলিতে পৌঁছে যেতে পারেন, সে কারণে তাদেরকে মোটরবাইক দেওয়া হবে। আর এই পুরো পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকরা নজর রাখবেন।
বলা ভালো, ভয়, হিংসা, প্রলোভন, ছাপ্পা এবং বুথ দখল মুক্ত স্বচ্ছ নির্বাচন করতেই এত্ত তৎপর জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সে কারণেই এই নির্দেশিকা জারি প্রসঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বার্তা দিয়েছেন, রাজ্য সরকার, স্থানীয় সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মী যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করেন। প্রতিটি ভোটারকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যেন দেওয়া হয়। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, কোনও অবস্থাতেই ভোটারদের ওপর কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার যাতে না হয়, সেদিকে বেশ কড়া নজর রাখছে তারা। যাতে সব পক্ষ সমান সুযোগ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়। আর ঠিক সে কারণেই সিভিক ভলান্টিয়রা যাতে রাজনীতির কাজে ব্যবহৃত না হয়, তাই কমিশন এহেন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও এই নির্দেশিকা জারি হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এখন দেখার, কঠোর এই ব্যবস্থার মধ্যে কতটা সুষ্ঠুভাবে ভোট সারতে পারে ভোট কমিশন।
