শপথ নেওয়ার পর প্রথম সোমবার। নবান্নের চৌকাঠে পা রেখেই অ্যাকশন মোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তিনি। আলোচ্য বিষয়? রাজ্যের ভিআইপিদের নিরাপত্তা। আর এই বৈঠকেই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং দুটি বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত। যা নিয়ে এখন তোলপাড় বাংলার রাজনীতি । পরাজয়ের পর হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সেই চিরচেনা ছবিটা বদলেছে ঠিকই। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা যাতে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য কলকাতা পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব। তাঁর সুরক্ষায় কোনো আপস করা চলবে না। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটি আরও চমকপ্রদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সৌজন্য দেখালেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কিন্তু ‘নিয়ম’ মনে করিয়ে দিলেন শুভেন্দু। প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাধারণ সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এতদিন Z প্লাস ক্যাটাগরির রাজকীয় নিরাপত্তা ভোগ করতেন অভিষেক? কোন যোগ্যতায় সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই বিলাসিতা চলত? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অভিষেকের এই বিশাল নিরাপত্তা বলয়ে এবার বড়সড় কাঁচি চলতে চলেছে।
তৃণমূল জমানায় আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের লোকেদের পাহাড়প্রমাণ নিরাপত্তা দেওয়ার যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, বিজেপি সরকার তার অবসান ঘটাতে চাইছে। সাংসদদের জন্য নির্ধারিত যে নিরাপত্তা বিধি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এখন সেই সাধারণ ঘেরাটোপেই থাকতে হবে। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা— নিয়ম সবার জন্য সমান। পরিবারতন্ত্রের খাতিরে কাউকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল— ভোটের ফলের পরেই তাঁর বাড়ির ইন্টারনেট লাইন কাটা হয়েছে, নিরাপত্তা সরানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি প্রশাসনকে জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি কোনো অবস্থাতেই চান না যে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক। একে কি দয়া বলব? নাকি রাজধর্ম পালন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিভিলেজ কেড়ে নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক দাপট কমিয়ে দিলেন, অন্যদিকে মমতার প্রতি সৌজন্য দেখিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। বদলা নয়, বরং বদল এবং ন্যায়ের শাসন— এই পথেই হাঁটছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। বাংলার মাটিতে এবার আইনের শাসন চলবে, কোনো ব্যক্তির শাসন নয়। শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত কি তৃণমূলের অন্দরমহলে বড় কোনো ধাক্কা? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানা ছাঁটাই কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? আগামী দিনগুলোই তার উত্তর দেবে।