রাজ্যে সরকার গঠনের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরে নতুন নির্দেশ সব মিলিয়ে নতুন সরকারের কাজকর্ম ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়ায় জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মাত্র পাঁচজন মন্ত্রীকে দফতর ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাকি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ র সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে বাংলার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। কোন নেতাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কতটা গুরুত্ব পাবে এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলে খুব দ্রুত বড় ঘোষণা আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকার গঠনের পরপরই তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভা ঘোষণা না করার পিছনে কৌশল থাকতে পারে। নতুন সরকার চাইছে প্রতিটি পদক্ষেপ হিসেব করে নিতে। কারণ মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আঞ্চলিক সমীকরণ সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে শুরুতেই সরকারের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই নেতৃত্ব কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও শোনা যাচ্ছে, একাধিক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের হয়ে কাজ করা নেতাদের পাশাপাশি কিছু চমকও থাকতে পারে বলে জল্পনা চলছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং শহরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে করা হবে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কারণ আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে এই মন্ত্রিসভার উপর। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কভাবে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে। কারণ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ধীরগতিতে চলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এছাড়াও এই বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য রাজ্য সরকারের জমির অনুমোদন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে শাহ-শুভেন্দুর আলোচনা হয়েছে বলে খবর।এছাড়াও CAA বাস্তবায়নের পথে রাজ্য সরকার কীভাবে পদক্ষেপ করবে সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে আলোচনায়।বরাবর খবরে শিরোনামে থাকা বাংলার আইন-শৃঙ্খলা যাতে এবার নিয়ন্ত্রণে আসে সে বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টিপস দিয়েছেন বলে খবর।
গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির স্থায়ী দায়িত্ব এখনও ঘোষণা হয়নি। ফলে সরকারি কাজের গতি কতটা বাড়বে, সেটাও এখন দেখার বিষয়। মানুষ চাইছে দ্রুত স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হোক।রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই রাজ্যের প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে নতুন সরকার। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ও বাড়তে পারে বলে মত অনেকের।
তবে বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, সরকার গঠনের এতদিন পরেও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণা না হওয়া প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত। যদিও শাসক শিবিরের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা মাফিকই এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই বড় ঘোষণা হবে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
বাংলার নতুন সরকারের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন। কার হাতে যাবে গুরুত্বপূর্ণ দফতর, কারা পাবেন মন্ত্রিত্ব, আর কারা বাদ পড়বেন সেই নিয়েই এখন জোর জল্পনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফরের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। সূত্রের খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে খুব শীঘ্রই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে দেখা যেতে পারে বড় পরিবর্তন ।
