বাংলার মহিলাদের জন্য শুভেন্দু সরকারের মেগা ধামাকা! ১লা জুন থেকে ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার থেকে রাজ্যের যেকোনো সরকারি বাসে মহিলারা যাতায়াত করতে পারবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তাও আবার এক টাকাও না দিয়ে! কিন্তু বাসে ওঠার আগে আপনাকে ঠিক কী কী নিয়ম মানতে হবে? কন্ডাক্টর চাইলে কোন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে? আর এই পিঙ্ক কার্ড বা স্মার্ট কার্ডের আসল চাবিকাঠিটাই বা কী? সবটা জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বাংলার সরকারি পরিবহন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটমানি আর সিন্ডিকেট রাজের জেরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শত শত সরকারি বাস ডিপোগুলোতে পড়ে পড়ে নষ্ট হয়েছে, স্ক্র্যাপ হয়ে গেছে। কিন্তু শুভেন্দুজির ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পরিবহন দফতর ময়দান তাঁবুতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে। লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোকে মেরামত করে এবং নতুন সরকারি বাস নামিয়ে রাস্তা সচল করার যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।
এবার আসি, আসল নিয়মে! ১লা জুন থেকে বাসে বিনামূল্যে উঠতে গেলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা। কিন্তু বাসের ভিড়ে কন্ডাক্টর সেটা বুঝবেন কীভাবে? পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকার স্বীকৃত যেকোনো একটি বৈধ পরিচয়পত্র (যেমন ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড বা পাসপোর্ট) মহিলাদের সাথে রাখতে হবে। বাসে উঠলে কন্ডাক্টর সেই পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করবেন এবং তাঁর পাঞ্চিং মেশিন থেকে একটি স্পেশাল কুপন ইস্যু করবেন। ওই কুপনের সমপরিমাণ টাকা রাজ্য সরকার সরাসরি পরিবহন নিগমকে মিটিয়ে দেবে। তবে কন্ডাক্টরদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাতে এবং জালিয়াতি রুখতে শুভেন্দু সরকার নিয়ে আসছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ— ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা বিশেষ স্মার্ট কার্ড!
এই QR কোড সমৃদ্ধ স্মার্ট কার্ডটি তৈরি করতে কী কী লাগবে?
যে কোনো সরকার অনুমোদিত পরিচয়পত্র যেমন—১০০ দিনের কাজের জব কার্ড বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড বা পাসপোর্ট, স্কুল/কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড ও সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি। এই ডিজিটাল পিঙ্ক কার্ডটি পাওয়ার জন্য আপনাকে নিজের এলাকার এসডিও (SDO) বা বিডিও (BDO) অফিসে আবেদন করতে হবে। কার্ডটি একবার হাতে পেয়ে গেলে বাসে উঠে শুধু সেটি দেখালেই কন্ডাক্টর আপনাকে ফ্রি কুপন দিয়ে দেবেন, আলাদা করে আর কোনো আইনি নথি দেখানোর ঝামেলা থাকবে না। কম দূরত্ব হোক বা বেশি দূরত্ব—রাজ্যের যেকোনো প্রান্তে সরকারি বাসে এই পিঙ্ক কার্ড দেখালেই কেল্লাফতে! হ্যাঁ, তৃণমূল জমানায় মহিলারা যেখানে বাসে-ট্রেনে সুরক্ষিত ছিলেন না, সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনে আজ নারীরা যেমন সস্তায় ও নিরাপদে যাতায়াত করবেন, তেমনই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। লক্কড়-ঝক্কড় বাসের দিন শেষ করে বাংলায় এবার রাজকীয় গতিতে ছুটবে সরকারি পরিবহন। তোষণের অন্ধকার সরিয়ে বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিল, আসল নারী কল্যাণ কাকে বলে!
