Will the bulldozer roll over Sandeep Ghosh's house next? The Kolkata Municipal Corporation sets its sights on the home of Sandeep Ghosh—the figure at the center of the R.G. Kar Hospital controversy!

এবার বুলডোজার চলবে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে? আরজি কর কাণ্ডের সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে নজর কলকাতা পুরসভার!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ডের পর থেকেই খবরের শিরোনামে বারবার উঠে এসেছে ডাঃ সন্দীপ ঘোষের নাম। আর এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হল তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে ঘিরে। কলকাতা পুরসভার তরফে অভিযোগ, উত্তর কলকাতার বদন রায় লেনের বাড়িতে নিয়ম ভেঙে একাধিক নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই নির্মাণ নাকি সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূত এবং পুরসভার অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে। এই বাড়িটি রয়েছে কলকাতা পুরসভার ৩ নম্বর বরোর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বাড়িটির মালিকানা রয়েছে সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী ডাঃ সঙ্গীতা ঘোষের নামে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অংশুমান সরকার নামে এক ব্যক্তি প্রথম এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। তদন্তে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরসভার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে প্রায় সাড়ে পাঁচ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল একটি নতুন কাঠামো। যার উচ্চতা প্রায় দুই মিটারেরও বেশি। অথচ এই নির্মাণের কোনও অনুমোদন ছিল না। এছাড়াও অভিযোগ, ছাদের ওপর লিফটের মেশিন রুমে যাওয়ার জন্য আলাদা করে বসানো হয়েছিল একটি লোহার ঘোরানো সিঁড়ি বা স্পাইরাল স্টেয়ারকেস। সেটিও ছিল সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূত।

শুধু তাই নয়, দোতলার একটি দরজা বন্ধ করে সেখানে নতুন করে ইটের দেওয়াল তুলে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এই সমস্ত নির্মাণ কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং রুলস ২০০৯-এর ১৩৩ এবং ১৩৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে বলেই দাবি পুর কর্তৃপক্ষের। এরপরই সন্দীপ ঘোষ দম্পতির বিরুদ্ধে কলকাতা পুরসভার ৪০০(১) এবং ৪১৬ ধারায় ডিমোলিশন মামলা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, গত ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরই এই নিয়ে প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এরপর গত ১৪ মে ২০২৬, স্পেশাল অফিসার বিল্ডিং এস বোরালের এজলাসে হয় এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত— দুই পক্ষই।

শুনানিতে অভিযোগকারী স্পষ্ট দাবি করেন, কোনওভাবেই যেন ছাদের ওই বেআইনি পারগোলাকে বৈধতা দেওয়া না হয়। অন্যদিকে, সন্দীপ ঘোষদের পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, পুরসভায় জমা দেওয়া কমপ্লিশন প্ল্যানে এই নির্মাণের কোনও উল্লেখ ছিল না। এমনকি আদালতে জানানো হয়, বাড়ির সংস্কারের কাজ চলাকালীন আগামী দু’মাসের মধ্যেই নিজেরাই সেই অংশ ভেঙে ফেলা হবে। তবে বিষয়টিকে আর ঝুলিয়ে রাখতে চাননি স্পেশাল অফিসার। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতেই হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আরজি কর কাণ্ডে ইতিমধ্যেই সিবিআই এবং ইডির তদন্তের মুখে পড়েছেন ডাঃ সন্দীপ ঘোষ। বর্তমানে তিনি জেলবন্দিও। আর সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার তাঁর বাড়ির বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা। এখন দেখার, পুরসভার নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই নির্মাণ ভাঙা হয় কিনা… নাকি এই বিতর্ক গড়ায় আরও বড় আইনি লড়াইয়ের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *