Suvendu takes a major step regarding the relaxation of Awas Yojana rules.

শুভেন্দুর আমলে টিনের চাল থাকলেও মিলবে পাকা ঘর! আবাস যোজনার নিয়ম শিথিলে শুভেন্দু সরকারের বিরাট পদক্ষেপ!

 

বাংলার মাটির মানুষদের দুঃখ দূর করতে এবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বা পিএম আবাস প্রকল্পের কড়া নিয়ম অনেকটাই শিথিল করার মহতী উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। আপনিও কি বছরের পর বছর ধরে আবাস যোজনার জন্য আবেদন করে চলেছেন, অথচ কোনো এক অজানা কারণে আপনার ফর্ম বাতিল হয়ে যাচ্ছে? তাহলে আজকের এই বিশেষ খবরটি শুধুমাত্র আপনারই জন্য। কেন্দ্রের মোদী সরকারের সাথে কাঁধ মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমন এক মানবিক ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা করছেন, যার ফলে প্রকৃত যোগ্য কোনো গরিব মানুষ আর পাকা ঘর থেকে বঞ্চিত হবেন না। ঠিক কী বড় বদল আসছে আবাসের নিয়মে? কীভাবে বিগত জমানার দুর্নীতি রুখে কোটা সিস্টেম চালু হতে চলেছে বাংলায়?

আবাস যোজনার পুরনো নিয়ম অনুযায়ী, যাদের পাকা বাড়ি বা ঢালাই ছাদ রয়েছে, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। কিন্তু এই নিয়মের ফাঁদে পড়ে বহু প্রকৃত গরিব ও অভাবী পরিবার ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। অনেক গরিব মানুষ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজের পরিবার ও সন্তানদের বাঁচাতে অত্যন্ত কষ্ট করে মাথার ওপর অ্যাসবেস্টস বা করোগেটেড টিনের শিট লাগিয়ে নেন। কিন্তু পূর্বতন নিয়মের জটলায় এই সামান্য টিনের চাল থাকার কারণেই তাঁদের ‘পাকা বাড়ি’র তালিকায় ফেলে আবেদন বাতিল করে দেওয়া হতো।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনদরদি চিন্তাভাবনা ঠিক এই জায়গাতেই এক বিরাট পরিবর্তন আনছে। রাজ্য প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য—দুর্যোগ থেকে বাঁচতে কেউ যদি সাময়িকভাবে ছাদ একটু মজবুত করার চেষ্টা করেন, তবে শুধু এই কারণে তাঁকে আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নবান্নের তরফে এই নিয়ম শিথিল করার জন্য সরাসরি কেন্দ্রের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে, যাতে অল্প পাকা ছাদ হলেও প্রকৃত গরিবদের নাম তালিকায় বহাল থাকে।

শুধু নিয়ম শিথিল করাই নয়, গরিবের হকের টাকা যাতে কোনো চোর, ফড়েমোড়ল বা সিন্ডিকেটের পকেটে না যায়, তার জন্য এক বিরাট শুদ্ধীকরণ অভিযান শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ ৫ বছরে দুটি দফায় যে প্রায় ৪৩ লক্ষ বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই সম্পূর্ণ তালিকা নতুন করে স্ক্রুটিনি বা পুনর্যাচাইয়ের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।এই ব্যাপক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ঘর হাতিয়ে নেওয়া সমস্ত অযোগ্য, ধনী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে সেই সমস্ত ঘর বা আর্থিক সাহায্য বাংলার আসল বঞ্চিত ও মাটির মানুষদের হাতে তুলে দেওয়াই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এর পাশাপাশি, আবাসের টাকা বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে এবার বাংলায় চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘কোটা সিস্টেম’। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে ঠিক কতজন উপভোক্তা পাকা বাড়ি তৈরির সরকারি সাহায্য পাবেন, তার একটা সুনির্দিষ্ট কোটা বা সংখ্যাভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করে দেবে কেন্দ্র। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় স্তরের স্বজনপোষণ বন্ধ হবে, অন্যদিকে তেমনই সঠিক সময়ে সরাসরি গরিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ইতিমধ্যেই দেশের ১২টি রাজ্যকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ১০,০২১.৪২ কোটি টাকার মেগা অনুমোদন দিয়েছেন। আসাম, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সুবিধা পেতে শুরু করেছে। খুব শীঘ্রই কেন্দ্রের সাথে নবান্নের আলোচনা চূড়ান্ত হলেই বাংলার জন্যও এই বিপুল ফান্ডের দুয়ার খুলে যাবে।

আবাস যোজনায় টিনের চাল থাকলেও ঘর দেওয়া এবং পুরনো তালিকার চোরদের ধরতে শুভেন্দু সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে জানন আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *