Suvendu's Roaring Rally in Bhabanipur!

“আমি সনাতনের সন্তান হলে জয় শ্রীরাম বলিয়েই ছাড়ব”…ভবানীপুরে শুভেন্দু-র মহাগর্জন!

বাংলার রাজনীতির পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে। বিশেষ করে কলকাতার রাজপথ যখন ভবানীপুরের অলিগলিতে গিয়ে মেশে, তখন সেই উত্তাপ আর চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকে না। ২৬-এর এই মহাযুদ্ধে সবার নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে। একদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতা, আর অন্যদিকে জনগনের ক্ষোভের প্রতিফলন—আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে চিতিয়ে হুঙ্কার দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। আসলে রাজনীতির লড়াই যখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়ায়, তখন শব্দগুলোও হয়ে ওঠে তলোয়ারের মতো ধারালো। আর এবার ভবানীপুরের নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী যা বললেন, তাতে তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক।

এদিন তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আমি যদি প্রকৃত সনাতনের সন্তান হই, তবে এদের মুখ দিয়ে জয় শ্রীরাম বলিয়েই ছাড়ব!” আর এই একটি বাক্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বিজেপি-র রণকৌশল। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোষণ আর বিভেদের রাজনীতি করে যারা এতদিন বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে অপমান করেছে, তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। ভবানীপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে শুভেন্দুর এই ‘সনাতনী’ সত্তা এক নতুন উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে। মানুষের চোখে-মুখেও সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাদের মনে হচ্ছে, এবার অন্তত তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। শুভেন্দু অধিকারী এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বলেন, “জনসভায় লোক নেই, মানুষের সমর্থন নেই—তাই মাইক্রোফোনের অজুহাত দিয়ে সভামঞ্চ ছেড়ে পালাচ্ছেন নেত্রী। ভবানীপুরের মানুষ আর আপনাদের ওপর ভরসা রাখছে না।”

বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠেছিলেন। কিন্তু ভিড় কম দেখে তিনি মাইক্রোফোনের অজুহাত দিয়ে মাঝপথেই সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটা স্রেফ টেকনিক্যাল সমস্যা নয়, বরং জনসমর্থন হারানোর ভয়। যেখানে আগে তার এক ডাকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতো, সেখানে আজ কেন এই শূন্যতা? অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী যখনই প্রচারে বেরোচ্ছেন, তখন হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে রাষ্ট্রবাদী মানুষরা তাকে ঘিরে ধরছেন। মানুষ বুঝতে পারছে, আসল উন্নয়ন আর কেবল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর প্রতিশ্রুতিতে আটকে থাকা—এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য অনেক। এদিনের বক্তৃতায় হিন্দু বিদ্বেষী রাজনীতির প্রতিবাদে তিনি বলেন, “আনন্দপুরে যখন মানুষ আক্রান্ত হয়, হিন্দুরা কষ্টে থাকে, তখন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান না। কারণ তিনি তো কেবল ভোটের অংকের রাজনীতি বোঝেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই বিভেদের দিন এবার শেষ হতে চলেছে।”

না, ভবানীপুরে এবার লড়াই কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই। বরং, ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে IS আধিকারিকরা সরাসরি ময়দানে নেমেছেন। আর এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় আর উর্দু নয়, চলবে কেবল বাংলা আর বাংলার কৃষ্টি। একই সাথে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ভোট দিতে বাধা দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ফলে রাষ্ট্রবাদী মানুষরা এখন শুভেন্দুর মধ্যেই দেখছেন সেই ভরসার জায়গা। ভবানীপুরের লড়াই আসলে বাংলার মানুষের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের লড়াই। শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি কথা, প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে, পদ্ম শিবির এবার জয়ের জন্য প্রস্তুত। মানুষের উচ্ছ্বাস আর শাসকের ভয়—এই দুই মিলে ভবানীপুরের মাটি এখন নতুন ভোরের অপেক্ষায়। সাধারণ মানুষ কি পারবে তোষণের রাজনীতি উপড়ে ফেলে উন্নয়নের পথে হাঁটতে? শুভেন্দুর এই হুঙ্কার কি শেষ পর্যন্ত EVM-এ প্রতিফলিত হবে? সময় বলবে সবটা। তবে একটা কথা পরিষ্কার, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আপনার কী মনে হয়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। যদি কমিশন এভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং দায়িত্বে গাফিলতির জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে থাকে, তাহলে তা গোটা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্যে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে এই মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলেও মত অনেকের।

এছাড়া কমিশন শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থাতেই থেমে থাকেনি; দ্রুত রিপোর্ট তলব এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তর, যেমন মুখ্যসচিবের কাছেও সরাসরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে—যা প্রমাণ করে কমিশন প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকাগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নীতি গ্রহণ করেছে কমিশন।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের গাফিলতি, পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় না থেকে, প্রয়োজনে সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার দিকেই জোর দিচ্ছে কমিশন, যা ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *