রাজ্যের নাম নিয়ে ফের সরগরম জাতীয় রাজনীতি। আর এবার সরাসরি সংসদে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের নাম নিয়ে বড় দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ এবং দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার রাজ্যসভায় কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনাতেই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কেরলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কেরলের নাম পরিবর্তনের দাবি বিবেচনা করা হয়, তাহলে বাংলার নাম পরিবর্তনের দাবি কেন মানা হয়নি?
এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে কার্যত বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্মের সঙ্গে বাঙালি হিন্দুদের জন্য আলাদা ভূখণ্ডের দাবির ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই ইতিহাসের কারণেই ‘বাংলা’ নামটি ব্যবহার করার বিরোধিতা করেন তিনি। শমীকের বক্তব্যের মূল যুক্তি—পশ্চিমবঙ্গের নাম শুধু ‘বাংলা’ করে দিলে দেশভাগের সময় যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আড়ালে চলে যেতে পারে।
তাই তাঁর দাবি, নাম ‘বাংলা’ নয়, আবার ‘West Bengal’-ও নয়। ‘পশ্চিম বঙ্গাল’ও নয় নাম হওয়া উচিত একেবারে ‘পশ্চিমবঙ্গ’। অর্থাৎ, বাংলার নাম নিয়ে বিজেপির অবস্থান এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এল। একদিকে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবি, রাজ্যের নাম ‘বাংলা’। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য—‘বাংলা’ নয়, ঐতিহাসিক পরিচয় বজায় রেখে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটিই থাকা উচিত। সংসদে একই আলোচনায় বিহারের নাম পরিবর্তনের দাবিও তোলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সুপারিশ—বিহারের নাম বদলে ‘পাটলীপুত্র’ করা হোক। শুধু রাজ্যের নাম নয়, একটি রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবিও জানান তিনি।
নালন্দা যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বখতিয়ারপুর জংশন। শমীকের যুক্তি, বখতিয়ার খিলজির নামের সঙ্গে নালন্দা ধ্বংসের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাঁর নামে কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের নাম থাকা জাতীয় লজ্জার বিষয় বলেই মনে করেন তিনি। তাই বখতিয়ারপুর স্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন বিজেপির এই সাংসদ। অর্থাৎ, একদিকে পশ্চিমবঙ্গের নাম নিয়ে ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখার দাবি, অন্যদিকে ঐতিহাসিক বিতর্কে থাকা ব্যক্তিত্বের নাম থেকে স্থান ও প্রতিষ্ঠানের নাম সরানোর দাবি দুটি বিষয়ই সংসদে তুলে ধরলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই দাবিকে ঘিরে ফের শুরু হতে পারে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইতিহাস বনাম প্রশাসনিক পরিচয়, দেশভাগের স্মৃতি বনাম ভাষাগত পরিচয় রাজ্যের নামের প্রশ্নে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
