দুর্গাপুজোর চারদিন ব্যারাকপুরও টিটাগড়ের অভাবী মানুষের মুখে ভালো খাবার তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর উদ্যোগে চালু হচ্ছে পুজো স্পেশাল এমএলএ ক্যান্টিন। উৎসবের দিনগুলিতে বিনামূল্যে খাবার পাবেন দরিদ্র মানুষরা।পুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন জামা, নতুন জুতো, প্যান্ডেল আর রকমারি খাবার। কিন্তু এই ছবির বাইরেও একটা কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। বহু মানুষের কাছে পুজোর আনন্দের থেকেও বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় দুবেলা পেট ভরে খাবার জোগাড় করা।
সেই জায়গাতেই কৌস্তভ বাগচীর এই উদ্যোগ আলাদা করে নজর কাড়ছে। নিজের এলাকার এমন মানুষদের কথা ভাবা হয়েছে, যাঁরা সারা বছর ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ পান না। পুজোর চারদিন অন্তত তাঁদের পাতে ভালো খাবার তুলে দেওয়াই লক্ষ্য।ব্যারাকপুর ও টিটাগড়ের বিভিন্ন জায়গায় এই ক্যান্টিন চলবে। অর্থাৎ খাবারের জন্য অভাবী মানুষকে দূরে কোথাও ছুটতে হবে না। তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাই করা হবে এই উদ্যোগে।এর মধ্যে শুধু জনসেবার বার্তাই নেই, রয়েছে উৎসবকে সত্যিকারের সার্বজনীন করে তোলার চেষ্টা। কারণ দুর্গাপুজো শুধু বনেদি বাড়ি, বড় প্যান্ডেল বা আলোর উৎসব নয়। এই উৎসব সেই মানুষেরও, যাঁর হয়তো নতুন জামা কেনার সামর্থ্য নেই।
কিন্তু কেন হঠাৎ এই ক্যান্টিনের পরিকল্পনা? এনিয়ে কৌস্তভ বাগচী বলছেন পুজোয় অধিকাংশ মানুষ যখন পরিবার নিয়ে আনন্দ করেন, ভালমন্দ খান, তখন অনেক অভাবী মানুষ সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকেন। তাঁদেরও বাঙালির সেরা উৎসবে আনন্দের অংশীদার করতেই এই উদ্যোগ নিচ্ছি।” তবে শুধু পুজোর চারদিন নয়, সারা বছরই ব্যারাকপুর দু-তিনটি জায়গায়। এমএলএ ক্যান্টিন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কৌস্তভ।
রাজ্যজুড়ে ফুটপাথবাসী ও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষজনের জন্য বিনামূল্যে ‘মা আহার’ প্রকল্প রয়েছে। যদিও তা নতুন সরকারের চালু করা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই ‘মা ক্যান্টিন’ নামে তা চালু করেছিলেন। মাত্র ৫ টাকায় দুপুরের খাবার পাওয়া যেত। পরবর্তীতে তার নাম বদলে মেনুও পালটে দেওয়া হয়। এখন ‘মা আহারে’ সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ডিম-ভাত, মাছ-ভাত পাওয়া যায়। তারই অনুপ্রেরণায় বারাকপুরের বিধায়কের এই উদ্যোগ।
কৌস্তভের উদ্যোগ তাই একটা প্রশ্নও সামনে আনে পুজোর আনন্দ কি শুধু নিজের মধ্যে আটকে থাকবে? নাকি সেই আনন্দের একটু অংশ ভাগ করে নেওয়া হবে এমন মানুষের সঙ্গে, যাঁদের জীবনে উৎসবের রং অনেকটাই ফিকে?
শেষ পর্যন্ত একটা গরম, ভালো খাবারের থালা হয়তো খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই থালাই হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসার প্রতীক। পুজোর দিনে একজন মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে পারা কৌস্তভ বাগচীর এই উদ্যোগের সবচেয়ে আবেগের জায়গা বোধহয় সেখানেই।
