বাংলার দুয়ারে ভোট! আর এই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালেই নারী নিরাপত্তাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যে ঘটে চলা নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মহিলাদের আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়ার ওপর জোর দিলেন এদিন। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর সাম্প্রতিক ‘ত্রিশূল’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এদিন লকেট চট্টোপাধ্যায় তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মহিলাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আর সে কারণেই ঠিক এই পরিস্থিতিতেই বাংলার নারী শক্তির প্রতীক লকেট চট্টোপাধ্যায় এক ঐতিহাসিক ডাক দিয়েছেন।
তার কথায়, “পুলিশ-প্রশাসন তো রক্ষা করতে পারছে না। আজ ঘরে ঢুকে মা-বোনেদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। তাই আমি বলব, ঘরের কোণে যে ত্রিশূল বা অস্ত্র আছে, তা শুধু পুজোর জন্য নয়, দুষ্টের দমনের জন্য বের করে আনতে হবে। মা দুর্গা যখন অসুর বধ করেছিলেন, তখন তাঁর হাতেও অস্ত্র ছিল। বাংলার মহিলাদের এখন সেই রণংদেহী মূর্তি ধারণ করতে হবে যাতে কোনো অন্যায়কারী তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।” এরপরই তিনি বলেন, “ভোট আসবে, ভোট যাবে। কিন্তু আমাদের ঘরের সম্মান আগে। নিজেদের সম্মান রক্ষা করার জন্য যদি আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হয়, তবে তাই নিতে হবে। এটা কোনো হিংসা নয়, এটা আত্মরক্ষা।” অর্থাৎ অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদ লকেটের কথাতে এটা স্পষ্ট যে, তিনি কোনো ধাতব বস্তু তুলে নিতে বলেননি। তিনি বলেছেন, প্রতিবাদ করতে।
বলে রাখা ভালো, বিজেপির এই লড়াই আদতে নারী সুরক্ষা নিয়ে কোনো আপস না করার লড়াই। অনেকেই অবশ্য লকেটের এই মন্তব্যকে হিংসা ছড়ানো বার্তা বলে মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে বেশিরভাগ মানুষের দাবি, যখন ললিপপ দেখিয়ে বা রাজনীতির নামে মায়েদের সম্মান লুট করা হয়, তখন লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এই ডাক আসলে প্রত্যেক অত্যাচারী শাসকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির দাবি, এটা নাকি নির্বাচনী উস্কানি। আর এতেই প্রশ্ন উঠছে, যখন বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্কের জন্য নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচার ধামাচাপা দেওয়া হয়, তখন কি সেটা গণতন্ত্রের লজ্জা নয়? কিন্তু এক্ষেত্রে বিজেপি কোনো বিশেষ ধর্মকে টার্গেট করছে না, বরং সেই মানসিকতাকে টার্গেট করছে যারা নারী শক্তিকে দুর্বল মনে করে।
এদিন এর পাশাপশি রাজ্য সরকারের তরফে দেড় হাজার টাকার প্রসঙ্গ নিয়েও মুখ খুলতে দেখা যায় তাকে। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “দেড় হাজার টাকায় কোনো সংসার চলতে না পারে না। এমনকি, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার পাশ করা ছেলে মেয়েদের হাত খরচ মাত্র দেড় হাজার টাকা হতে পারে। আর সে কারণেই বিজেপি সরকার মাসে ৩ হাজার টাকা করে দিতে চলেছে বাংলার মা-বোনেদের।” তবে, এদিনের সকল বক্তৃতার মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ত্রিশূল সংক্রান্ত মন্তব্যটি। যদিও এখন সময় পাল্টেছে। বাংলার নারী এখন অনেক বেশি সচেতন। তাই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এই বার্তা কেবল একটি ভাষণ নয়, এটি একটি নতুন ভোরের সূচনা। তাছাড়া, বর্তমানে অশুভ শক্তির বিনাশ করতে এবং বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে এই নারী শক্তির জাগরণ খুবই দরকার।
