পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার দিল্লির উচ্চসদন অর্থাৎ রাজ্যসভাতেও ব্যাপক শক্তিবৃদ্ধি হতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হওয়ার পর এক ধাক্কায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ব্যাপক ধস নেমেছে, তারই ফলশ্রুতি হিসেবে রাজ্যসভার তিনজন হেভিওয়েট সাংসদ তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। পদত্যাগকারী এই তিন সাংসদ হলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বারাইক। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর যেখানে তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যে দল ছাড়ার এবং এনডিএ সমর্থিত শিবিরে যোগদানের এক নজিরবিহীন হিড়িক লক্ষ্য করা গিয়েছে, সেখানে এই উপনির্বাচন বিজেপির শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর সুনির্দিষ্ট ধারা মেনে এই শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সময়সূচী প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্যসভাসহ সকল সদনের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া প্রতিটি শূন্যপদকে সম্পূর্ণ পৃথক হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি করে আলাদাভাবেই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদিও প্রতিটি আসনের জন্য ভোটগ্রহণের সামগ্রিক কর্মসূচি ও দিনক্ষণ একই রাখা হয়েছে। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামীকাল অর্থাৎ ৭ জুলাই এই উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল করার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার। জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনি করা হবে ১৫ জুলাই বুধবার এবং কোনো প্রার্থী যদি তাঁর নাম প্রত্যাহার করতে চান, তবে তার জন্য শেষ সময় দেওয়া হয়েছে ১৭ জুলাই শুক্রবার।
সবশেষে, আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বহুপ্রতীক্সিত উপনির্বাচনের মূল ভোটগ্রহণ পর্ব। ওই দিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বিধানসভার ভেতরেই জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও গতি বজায় রাখতে ওই দিনই অর্থাৎ ২৪ জুলাই বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে যাবে ভোট গণনা এবং রাতের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে রাজ্যসভার নতুন সাংসদদের নাম। আগামী ২৭ জুলাই সোমবারের মধ্যেই এই গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তৃণমূলের তোষণ ও দুর্নীতির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলার মানুষ যে নতুন দিশা দেখিয়েছেন, রাজ্যসভার এই উপনির্বাচনের হাত ধরে দিল্লির বুকেও বাংলার সেই জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।
