দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে অপহরণ, নৃশংস ধর্ষণ এবং নির্মমভাবে খুন করার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। এই অমানবিক ও পৈশাচিক অপরাধের ঘটনা সামনে আসতেই সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং তাদের আমলের জঙ্গলরাজকে তীব্র ভাষায় কাঠগড়ায় তুলেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, বিগত ঘাসফুল শিবিরের আমলে যেভাবে রাজ্যে লাগামছাড়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছিল, বর্তমানের এই সমস্ত জঘন্য অপরাধ মূলত তারই বিষময় ফল।
ওই শাসনকালে অপরাধীদের মাথায় রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় তারা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সাহস পেয়েছিল, যার খেসারত আজ বাংলার মা-বোনেদের দিতে হচ্ছে। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অপরাধ দমনে প্রশাসন যে কতখানি তৎপর, তা রবিবারের ঘটনার পরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। নৃশংস এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন কোনো রকম সময় নষ্ট না করে দ্রুততার সাথে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে এবং মূল অভিযুক্তসহ বাকিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জালে পুরে ফেলে।
রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই সংবেদনশীল ঘটনায় অত্যন্ত মানবিক ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শোকার্ত নাবালিকার বাবার সাথে ফোনে কথা বলেন এবং এই কঠিনতম সময়ে রাজ্য সরকার যে সম্পূর্ণভাবে তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছে, সেই সুদৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরণের নরপিশাচ ও অপরাধীদের সাথে প্রশাসনের কোনো রকম আপোষ বা আপোসের জায়গা নেই।
তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়াতে এবং অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাতে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে রবিবার রাতভর বারুইপুরের বিভিন্ন গোপন ডেরায় ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুই এই হাইপ্রোফাইল মামলার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই ঘৃণ্য অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট হোক না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেও তিনটি পৃথক মামলা রুজু করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল আমলের সেই ভয় ও নারী নির্যাতনের অন্ধকার সংস্কৃতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলে, অপরাধীদের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে কঠোরতম বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। রত্না দেবনাথের বলিষ্ঠ হুঙ্কার এবং শুভেন্দু অধিকারীর কড়া প্রশাসনিক নির্দেশে এটা স্পষ্ট যে, বাংলায় আর কোনো নরপিশাচ পার পাবে না এবং এই নির্যাতিতা শিশুটির পরিবার খুব শীঘ্রই প্রকৃত ন্যায়বিচার পাবে।
