বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারুইপুর যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দোলা সেন প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কি কার্যত ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে? তাঁর অভিযোগ, কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়াই একজন জননেত্রীর চলাচলের উপর এই ধরনের কড়াকড়ি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দোলা সেনের দাবি, বারুইপুরে নাবালিকার উপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও তার আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, এলাকায় প্রবেশ করতে গিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক নেতার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার মানুষের সংকটে পাশে দাঁড়ানো নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনও মর্মান্তিক ঘটনার পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়াকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দোলা সেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ঠিকই, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের নামে যদি একজন বিরোধী নেত্রী বা জননেত্রীর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির চলাচল বা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের নজরদারি গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দোলা সেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়া কাউকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জবাব প্রশাসনকেই দিতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছেও এই পদক্ষেপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
এই আবহে কালীঘাটে পুলিশ মোতায়েন এবং তা ঘিরে ওঠা বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। তবে পুলিশের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আগামী দিনে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের পদক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি—সবকিছুর দিকেই এখন নজর থাকবে রাজ্যের মানুষের।
