পালাবদলের বাংলায় বিরাট ঘোষণা বিজেপি সরকারের। পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত করতে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের। বুধবার অর্থাৎ ২০ মে থেকেই কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে ‘পুশব্যাক’ আইন কার্যকর রাজ্যে। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনুপ্রবেশকারী হঠাতে ২০২৫ সালেই রাজ্যকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। সেই নির্দেশিকা মানেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। এবার জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজ থেকে সেই আইন বলবৎ করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। তারপর প্রটোকল মেনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে অনুপ্রবেশকারীদের তুলে দেবে বিএসএফ।
এদিনের বৈঠক থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের প্রত্যর্পণ বা ডিপোর্ট করা নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা এবং সিএএ-র সুরক্ষাকবচ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত থাকবে ছাড়। সিএএ-র নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের কোথাও কোনোভাবেই কোনও হ্যারাসমেন্ট বা হেনস্থা করা হবে না। যারা ওই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর (অর্থাৎ ২০২৫ বা তার পরে) অবৈধভাবে ভারতে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করবে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে, যাতে বিএসএফ বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডস-এর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ডিপোর্ট করতে পারে।
এ দিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিএএ-র আওতায় কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করা হবে না। তাঁরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারতের নাগিরকত্ব পাবেন। সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত ৭টি কমিউনিটি বা ধর্ম পালন করা লোকেরা তাঁরা সিএএ অনুযায়ী আওতায় আসবেন। যাঁরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারত তথা বাংলায় এসেছেন তাঁদের পুলিশ কোনওভাবেই হেনস্তা বা আটক করতে পারবে না। সিএএ-র আত্ততায় যারা নেই তারা পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্নের এই বৈঠক থেকে একদিকে যেমন বিএসএফ-কে জমি দিয়ে সীমান্ত কাঁটাতারের জট কাটানো হলো, তেমনই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-কে একযোগে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করে দিল এই সরকার।