Having lost power, the Trinamool is now on the path to total annihilation!

ক্ষমতা হারিয়ে এবার মূল সমেত বিনাশের পথে তৃণমূল !

বাংলায় পরিবর্তনের সুনামি এবার আছড়ে পড়ল কাঁচরাপাড়ায়! নবান্নের মসনদ হাতছাড়া হতেই পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। যে নেতারা এতদিন ক্ষমতার গরমে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভরিয়েছেন, আজ ক্ষমতা যেতেই তাঁরা ইঁদুরের মতো গর্তে লুকানোর পথ খুঁজছেন। কাঁচরাপাড়া পুরসভায় তৃণমূলের পাপের সাম্রাজ্যে চূড়ান্ত ধস নামিয়ে একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৫ জন কাউন্সিলর! মঙ্গলবার তাঁদের এই গণ-ইস্তফা জমা পড়তেই বীজপুরের রাজনৈতিক মহলে ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে।
আসলে পিসি-ভাইপোর বিদায়ের পর থেকেই গোটা রাজ্যে তৃণমূল এখন কার্যত নেতৃত্বহীন, অভিভাবকহীন এক অনাথ দল। কাঁচরাপাড়ার মানুষও বিগত কয়েক মাস ধরে দেখছিলেন কীভাবে পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা হয়ে বসেছিলেন। পুরপ্রধানের চেয়ার খালি, নাগরিক পরিষেবা স্তব্ধ, আর তৃণমূলের নেতারা নিজেদের কাটমানির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই তোষণ আর অহংকারের রাজনীতির খেসারত দিতে দিতে কাউন্সিলরদের একাংশের ক্ষোভের বাঁধ অবশেষে ভেঙে গেছে। তৃণমূল যখন কাঁচরাপাড়ার মানুষকে নরকযন্ত্রণা দিচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দিনকয়েক আগেই পুরসভার স্থবিরতা কাটাতে এবং নাগরিক পরিষেবা সচল করতে কাঁচরাপাড়া পুরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছিলেন বীজপুরের দাপুটে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। আর বিজেপির এই সক্রিয়তা দেখেই তৃণমূলের অন্দরে কাঁপন ধরে যায়। গত রবিবার কল্যাণীতে এক গোপন বৈঠকে বসেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা, আর তার পরেই মঙ্গলবার এই মেগা ইস্তফার মহানাটক!
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই জোর গুঞ্জন—এই ১৫ জন কাউন্সিলর কি এবার পাপমুক্ত হতে পদ্ম শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন আর মোদীজির উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে শামিল হতেই কি এই ইস্তফা? তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই নিয়ে পুরোপুরি মুখে কুলুপ এঁটেছে। কারণ, উত্তর দেওয়ার মতো মুখ আজ পিসি বা ভাইপো—কারোরই নেই। চুরি আর কাটমানি খেয়ে দলটাকে যারা দেউলিয়া করে দিয়েছে, তাদের কাউন্সিলররা যে দল ছাড়বেন, এটাই তো স্বাভাবিক!
কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ডের এই পতনের পর বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন— “পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৫ জনের ইস্তফা যদি সত্যি হয়, তবে এই দুর্নীতিগ্রস্ত বোর্ড আর এক সেকেন্ডও টিকবে না। আমরা সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব। তবে কাঁচরাপাড়ার একটা মানুষকেও আমরা সমস্যায় পড়তে দেব না, নাগরিক পরিষেবা থাকবে ১০০% সচল।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা ছিল—”জনগণের পরিপন্থী কোনো বোর্ডকে বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না।” কাঁচরাপাড়ার এই পতন আসলে কেবল শুরু, আগামী দিনে রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলো থেকেও এভাবেই বিদায় নেবে দুর্নীতিবাজ তৃণমূল। তোষণের অন্ধকার সরিয়ে কাঁচরাপাড়ায় এবার ফুটতে চলেছে পদ্মফুল।
আপনার কী মনে হয়? কাঁচরাপাড়া পুরসভার এই ১৫ জন কাউন্সিলরের ইস্তফা কি আসলেও বাংলায় তৃণমূলের অন্তিমলগ্নের সূচনা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *