মমতাকে হারানোর নির্দেশ এসেছিল অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে! ঋতব্রতের বিস্ফোরক দাবি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কী চলছিল? এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। একটি পডকাস্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে তৃণমূলের ১২ থেকে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই তালিকায় নিজের নামও ছিল। আর তালিকার শীর্ষে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতের দাবি, এই তালিকায় থাকা ১৪ জনের মধ্যে মাত্র দুজন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হন। বাকি প্রার্থীদের পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়।

ঋতব্রতের বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকায় একাধিক পরিচিত তৃণমূল নেতার নাম ছিল।
তিনি যে নামগুলির উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস এবং অরুণাভ সেন। নিজের নামও সেই তালিকায় ছিল বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত।
পাশাপাশি, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ফিরহাদ হাকিমের নাম এই তালিকায় ছিল না।
আর সবথেকে চাঞ্চল্যকর অংশ ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই বক্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দলের প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কি কোনও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল? নাকি এটি নির্বাচনী পরাজয় এবং দলীয় সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওঠা একটি রাজনৈতিক অভিযোগ?

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের সাংগঠনিক কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই দুই নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রার্থী বাছাই এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জল্পনা দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঋতব্রতের এই অভিযোগ সামনে আসার সময়ই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলছে আরও একটি বড় রাজনৈতিক সংঘাত। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। এই শিবিরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবলার’ প্রতীক। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তাঁদের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’।

এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় পরিচয়, প্রতীক এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই শিবিরের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রতীক নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রতের করা ১৪ জনের তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন করে দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *