দিল্লিতে মোদী সরকারের নগ্ন বরবরতা! ককরোচ আন্দোলনে গণ-গ্রেপ্তারের ঘটনায় গর্জে উঠল আন্তর্জাতিক স্তরে রাষ্ট্রসংঘ!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা ককরোচদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বরবর পুলিশি তাণ্ডব আর নজিরবিহীন ধড়পাকড় চালিয়ে বিশ্বমঞ্চে এবার ধিক্কার কুড়োল মোদী সরকার! গণতন্ত্রকে বুট উঁচিয়ে মাড়িয়ে যেভাবে দিল্লিতে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তাতে এবার কড়া চাবুক মারল সরাসরি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন। বিরোধীদের ওপর স্বৈরাচারী পশুবৎ অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের মোড়ল ভাবা বিজেপি সরকারের নগ্ন রূপটা আজ আন্তর্জাতিক দরবারে সম্পূর্ণ ফাঁস হয়ে গেছে!
শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই আতঙ্কে কাঁপতে থাকা দিল্লি পুলিশ বিমানবন্দরে নেমেই হানা দেয়।

বিমানে উঠে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে টানাঁচ্যাঁচড়া করে অনৈতিকভাবে আটক করা হয়। শুধু তা-ই নয়, আন্দোলনের আঁচ থেকে নিজেদের বাঁচাতে প্রাক্তন চার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের মতো শীর্ষ জননেতাদের পাশাপাশি বিরোধী নেতা, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ধরে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশি হেপাজতে! খবর মিলছে, প্রায় ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীকে বেআইনিভাবে আটক করেছে কেন্দ্রের পোষা পুলিশবাহিনী।

 

মোদী সরকারের এই জঘন্য আর গণ-আটকের খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে ধিক্কার উঠেছে। শনিবার রাতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান সরাসরি বিবৃতি জারি করে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রসংঘ স্পষ্ট ভাষায় তিনটি প্রধান নির্দেশ দিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে মোদী প্রশাসনকে—
প্রথমত, জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা করতে হবে। কোনো অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চরম সংযম দেখাতে হবে, কারণ এই ধরনের ফ্যাসিবাদী বর্বরতা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের গালে এক মস্ত বড় চড়!

তৃতীয়ত ও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ—যাদের চরম বেআইনি ও অমানবিক উপায়ে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে!
এ ছাড়া রাষ্ট্রসংঘ মোদী সরকারকে স্পষ্ট শুনিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিবাদীদের যৌক্তিক দাবি ও উদ্বেগ এড়িয়ে গায়ের জোরে আন্দোলন দমন করা যাবে না, বরং অবিলম্বে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান করতে হবে।
ককরোচদের ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে বিজেপি সরকার যতই পুলিশি রাজত্ব আর দমনপীড়ন চালাক না কেন, জাতীয় স্তরের প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের এই ধাক্কায় এখন সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। দিল্লিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানোর কারণে আজ সুপ্রিম কোর্টও জরুরি ভিত্তিতে বসতে চলেছে।
ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায্য নিপীড়ন চালিয়ে মোদী সরকার যে নিজের কফিনে নিজেই শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল, তা নিয়ে এখন আর কোনো সন্দেহই নেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *