ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আকাশ সুরক্ষার ইতিহাসে রচিত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়! শত্রুর বুকে কাঁপন ধরানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী তথা পরাক্রমী যোদ্ধা এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত বসতে চলেছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ আসনে। আগামী ৩১ অক্টোবর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বায়ুসেনার ২৯তম প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন তিনি। বর্তমান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং একই দিনে অবসর নিচ্ছেন। আর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশের বায়ুপথের অখণ্ডতা রক্ষার গুরুদায়িত্ব তুলে নিচ্ছেন বর্তমানে বায়ুসেনার উপ-প্রধান পদে কর্মরত এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত!
প্রায় চার দশকের সুদীর্ঘ ও বর্ণময় সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ফাইটার পাইলট কেবল যুদ্ধের ময়দানেই ক্ষুরধার নন, বরং ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও অন্যতম মূল কারিগর। ১৯৬৬ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা আশুতোষ দীক্ষিত ১৯৮৬ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ফাইটার শাখায় কমিশন লাভ করেন। একজন ‘এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট পাইলট’ এবং ‘কোয়ালিফাইড ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর’ হিসেবে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশ চষে বেড়ানোর অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। মিরাজ-২০০০, মিগের বিভিন্ন বিধ্বংসী ভ্যারিয়েন্ট, জাগুয়ার, আইএল-৭৮, হক এবং ভারতের গর্ব দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান ‘এলসিএ তেজস’— প্রতিটি যুদ্ধবিমান উড্ডয়নে তাঁর দক্ষতা নিখুঁত ও অনন্য।
বাস্তব সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই চরম ত্রাসের কারণ। কার্গিল যুদ্ধের সময় ‘অপারেশন সাদা সাগর’, কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাস দমনে ‘অপারেশন রক্ষক’ এবং সাম্প্রতিক সময়ের বহুচর্চিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ তাঁর সরাসরি রণকৌশল ও নেতৃত্ব গোটা দেশকে গর্বিত করেছিল। কর্মজীবনে তিনি বীরদর্পে কমান্ড করেছেন একটি মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রন, পশ্চিমাঞ্চলের স্পর্শকাতর ফ্রন্টলাইন ফাইটার এয়ার বেস এবং পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরের ফাইটার ট্রেনিং বেস। উপ-প্রধান হওয়ার আগে তিনি সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে ‘চিফস অফ স্টাফ কমিটি’-র চেয়ারম্যানের ‘চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ’ পদেও সফলভাবে দায়িত্ব সামলেছেন।
যুদ্ধের মাঠ থেকে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা— সব জায়গাতেই রেখেছেন দূরদৃষ্টির ছাপ। ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ থাকাকালীন বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ, নীতি নির্ধারণ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তিনি বৈপ্লবিক ভূমিকা নেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির এই প্রাক্তনী বাংলাদেশ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেন।
দেশের প্রতি তাঁর এই নিঃস্বার্থ বীরত্ব ও অতুলনীয় সেবার স্বীকৃতি হিসেবে একের পর এক সর্বোচ্চ সামরিক পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে ‘বায়ু সেনা পদক’, ২০১১ সালে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’, ২০২৩ সালে ‘অতি বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ২০২৬ সালে ভূষিত হয়েছেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘পরম বিশিষ্ট সেবা পদক’-এ!
সীমান্তে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের এই সন্ধিক্ষণে, এয়ার চিফ মার্শাল পদে আশুতোষ দীক্ষিতের মতো একজন অভিজ্ঞ, নির্ভীক ও আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নদর্শী কমান্ডারের আগমন ভারতীয় বিমান বাহিনীকে যে অপ্রতিরোধ্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে— তা নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই!