উপনির্বাচনে বিজেপির চরম ভোট চুরি আর জবরদখল! ভিডিও প্রকাশ্যে এনে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

বাংলায় বিজেপির তথাকথিত নির্বাচনের আসল সত্যিটা এবার জলজ্যান্ত ভিডিওতে সবার সামনে চলে এলো! উপনির্বাচন ঘিরে নন্দীগ্রাম আর রেজিনগরে কীভাবে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিজেপি ভোট চুরি করেছে, তা হাতেনাতে প্রমান করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশকে দলদাস বানিয়ে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিজেপি কীভাবে জবরদখল করে নিয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
রেজিনগরের এক স্থানীয় বাসিন্দার শেয়ার করা উদ্বেগজনক ভিডিও সামনে এনে তৃণমূল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়ে দিলেন বিজেপির নোংরা রাজনীতির আসল রূপ। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে এবং নিজেদের ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ! অথচ সেই পুলিশেরই চোখের সামনে দিনের আলোয় অন্যের নামে দিব্যি প্রক্সি ভোট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে! এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত! বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার বদলে, আপনি রাজ্যটাকে এক চরম অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”

অভিষেক আরও বলেন, বিজেপি দাবি করেছিল ‘এটা তো কেবলই একটা উপনির্বাচন’। কিন্তু কোনো ভোটের গুরুত্ব বা আকারের ওপর কি সেই ভোটের পবিত্রতা নির্ভর করতে পারে? পশ্চিমবঙ্গজুড়ে কীভাবে দিনের পর দিন বিজেপি ভোট চুরির কারবার চালাচ্ছে, রেজিনগরের এই ভিডিওটাই তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। বিজেপির এই চক্রান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানান, নির্বাচন বানচাল করতে বিজেপির ‘প্ল্যান এ’ হলো এসআইআর আর ‘প্ল্যান বি’ হলো এই ভিডিওতে ফাঁস হওয়া পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠের কারসাজি!

গত মঙ্গলবারের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে যা ঘটল, তাকে গণতন্ত্রের হত্যা বললেও কম বলা হয়। সংখ্যালঘু ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে বুথে বুথে ফলস ভোটের তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকেও বুথের ভেতরে মারধর করা হয়েছে এবং তিনি নিজে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপি কর্মীদের দিয়ে জালিয়াতির ভোট করিয়েছে। বিজেপির এই চরম ভোট লুঠ, জবরদখল আর জালিয়াতির বিরুদ্ধে আজ একজোট হয়ে গর্জে উঠছেন সচেতন নাগরিকরা। ভোট চুরি করে সাময়িক আনন্দ পেলেও, বাংলার সচেতন মানুষ বিজেপির এই জঘন্য রাজনীতিকে কখনোই বরদাস্ত করবে না!

বিজেপির এই জঘন্য ভোট চুরির রাজনীতি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তারা কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে শুভেন্দু অধিকারীর দলদাস পুলিশ আজ সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে, আর বুথে বুথে ছাপ্পা মেরে নিজেদের জালিয়াতি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশি ক্ষমতা আর ভীতি প্রদর্শন করে বেশি দিন সাধারণ মানুষের রায়কে চাপা দেওয়া যায় না। ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ বিজেপি যাই বলুক না কেন, এই চাঞ্চল্যকর ভিডিওর পর তাদের অগণতান্ত্রিক শাসনের কঙ্কালসার চেহারা গোটা দেশের সামনে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গেছে, এবং বাংলার জাগ্রত জনগণ খুব শীঘ্রই ভোটের বাক্সে এই ভোটচোরদের যোগ্য জবাব দেবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *