বাংলায় ঐতিহাসিক পালাবদল আর বিজেপি সরকার গঠনের পর ১৯ দিন পার! কিন্তু ক্ষমতার লোভে যারা ভেবেছিল রাতারাতি দলবদল করে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরে নেবে, তাদের মুখে সপাটে চড় মারল গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের তোলাবাজ ও চোর নেতাদের উদ্দেশ্যে এবার খোদ বরানগরের দাপুটে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ দিয়ে দিলেন চরম ‘ব্লিচিং’ হুঁশিয়ারি! সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো—বিজেপির পবিত্র অন্দরে কোনো ‘তৃণমূলের ভাইরাস’ ঢুকতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ আসেও, তবে দলবদলু চোরদের আগে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে সাফ করা হবে! ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূলের নেতারা কেন আজ বিজেপির পায়ে পড়ার জন্য ছটফট করছেন? আর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বই বা কেন বন্ধ করে দিল সদর দরজা? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
তৃণমূলের সন্ত্রাস আর গুন্ডামির বিরুদ্ধে লড়াই করে বরানগরের মাটি থেকে জিতে এসেছেন সজল ঘোষ। হারিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই জয়ের পেছনে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস। তৃণমূলের হার্মাদরা সজল ঘোষের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছিল, তাঁর গাড়ি ভেঙে চুরমার করা হয়েছিল, বাড়ির দরজাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল! এত অত্যাচার সহ্য করেও তিনি মাথা নত করেননি। অবশেষে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, যারা দলের আসল কর্মী, যারা মার খেয়েছে, লড়াইটা তাদের জন্য। তৃণমূলের কোনো তোলাবাজকে দলে নিয়ে সেই ত্যাগী কর্মীদের অপমান সহ্য করা হবে না। সজল ঘোষের এই ছক্কা হাঁকানো বয়ানে এখন কাঁপছে ওপার থেকে আসা সুবিধাবাদীরা।
শুধু সজল ঘোষ-ই নন, ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাতসকালে স্ব-মেজাজে ধরা দিয়েছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সকাল সকাল ঝালমুড়ি খেতে খেতে একের পর এক ধারালো প্রশ্নে তৃণমূলকে একেবারে তুলোধোনা করেছেন তিনি। অনুপ্রবেশ ইস্যু থেকে শুরু করে তৃণমূলের দুর্নীতি—ঝালমুড়ি চিবোতে চিবোতেই তৃণমূলের রাজনৈতিক কঙ্কালটা সাধারণ মানুষের সামনে টেনে বের করে দিয়েছেন নয়া মন্ত্রী। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় বিজেপি সরকার এলেও তোষণ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এক ইঞ্চিও কমবে না। বরং, তৃণমূলের চোরেরা যে এখন দলবদল করতে মরিয়া, তা খুব ভালো করেই বোঝে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
আর সেই কারণেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির নো-এন্ট্রি পলিসি। তিনি সাফ হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “যারা সিন্ডিকেটে ছিল, যারা কয়লা-বালি বিক্রিতে ছিল, যারা মা-বোনেদের চোখের জল ঝরিয়ে চাকরি বিক্রিতে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য বিজেপির দরজা কোনোদিন খোলা থাকবে না।” তবে তৃণমূলের ভেতরে থাকা যে সমস্ত ভালো মানুষ পরিস্থিতির চাপে এবং পিসি-ভাইপোর অত্যাচারের ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি, তারা যদি কড়া নাড়েন, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সঠিক সময়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। কিন্তু কোনো চোর-চিটিংবাজের ঠাঁই এই জাতীয়তাবাদী দলে হবে না। বিগত ১৫ বছর ধরে যে তৃণমূল বাংলাকে লুটেপুটে খেয়েছে, আজ ক্ষমতা হারিয়ে তারা বিজেপির ঘরে আশ্রয় খুঁজছে। কিন্তু মোদী-শুভেন্দুর জমানায় চোরদের জায়গা হবে সোজা জেলে, বিজেপির পার্টি অফিসে নয়! সজল ঘোষের ব্লিচিং দাওয়াই আর শমীক ভট্টাচার্যের কড়া নীতি প্রমাণ করে দিয়েছে—বিজেপি সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করে না, তারা বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ গড়তে বদ্ধপরিকর। আপনার কী মনে হয়, সজল ঘোষের এই ‘ব্লিচিং পাউডার’ দিয়ে তৃণমূলের ভাইরাস তাড়ানোর হুঁশিয়ারি কি একদম সঠিক? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।