উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সংলগ্ন এলাকায় টোটো এবং অটো চালকদের পোশাকের ধরণ নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন বিতর্ক সামনে এসেছে। দত্তপুকুর ট্রাফিক গার্ডের এক পদস্থ আধিকারিক বামনগাছি চৌরাস্তার মোড়ে হঠাৎই এক অভিনব অভিযান শুরু করেন। সেখানে যে সমস্ত চালকরা লুঙ্গি, হাফ প্যান্ট কিংবা বারমুডা পরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাঁদের রাস্তায় আটকে কড়া পরামর্শ দেওয়া হয় যে, পরের দিন থেকে এই ধরণের পোশাক পরে আর রুটে নামা যাবে না।
পুলিশের দাবি, জেলা ট্রাফিক দপ্তরের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে বহু মহিলা যাত্রী লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন যে, চালকদের এই ধরণের অশালীন পোশাকের কারণে তাঁদের যাতায়াত করতে চরম অস্বস্তি বোধ হয়। বিশেষ করে অটোর সামনের সিটে বা টোটোর সংকীর্ণ জায়গায় বসার সময় এই সমস্যা আরও জট পাকায়। যাত্রীদের সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এবং রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখতেই পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই চালক এবং সাধারণ মহলে এক বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, রাজ্য সরকার বা পুলিশ মহলের তরফ থেকে সিভিল পোশাকে গাড়ি চালানো নিয়ে এমন কোনো লিখিত নির্দেশিকা বা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ফলে আইনগত কোনো ভিত্তি ছাড়া একজন পুলিশ আধিকারিক কীভাবে নিজের মতো করে চালকদের ওপর এমন পোশাক ফতোয়া চাপিয়ে দিতে পারেন, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই বিষয়ে বারাসত পুলিশ জেলার ট্রাফিক ডিএসপি নিহাররঞ্জন রায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। রাস্তায় ডিউটি করার সময় হয়তো কোনো আধিকারিক মহিলা যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে চালকদের কাছে একটি মানবিক আবেদন বা অনুরোধ জানিয়েছেন মাত্র। তবে এই পোশাক পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে যদি কোনো চালকের সাথে খারাপ আচরণ বা জোরজবরদস্তি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মেলে, তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত তদন্ত করা হবে। একদিকে নারী সুরক্ষার খাতিরে শালীনতার প্রশ্ন, আর অন্যদিকে রুটি-রুজির টানে ব্যস্ত থাকা চালকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বারাসতের এই টোটো-অটোর পোশাক বিতর্ক এখন রাজ্যজুড়ে এক গরম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে
