উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির প্রায় ২০০ বছরের পুরনো শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শনিবার ঐতিহাসিক দণ্ডমহোৎসব উপলক্ষে মহোৎসবতলা ঘাটে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। এই সময় স্বাভাবিকভাবেই মন্দিরের প্রণামী বাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়ে। ঠিক এই সময়েই সামনে আসে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। মন্দিরের সেবায়েত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, মহোৎসবের আগের সন্ধ্যায় পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে আসেন।
সেবায়েতের অভিযোগ, প্রথমে মন্দির এবং প্রণামী বাক্সের চাবি কার কাছে রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর তাঁকে বলা হয়, মন্দিরের ভিতরে এবং বাইরে থাকা সমস্ত প্রণামী বাক্সের টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনা করা হবে। বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি এই প্রস্তাবে আপত্তি জানান। তিনি স্পষ্ট বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিধায়কের লিখিত নির্দেশ দেখাতে হবে। এরপর আর বিষয়টি এগোয়নি। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এত বড় অভিযোগ করলেও এখনও পর্যন্ত তিনি এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
এরই মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এই বিষয়ে কথোপকথন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শেখর দেবনাথ। তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিওটি সম্পূর্ণ শোনা হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শেখর দেবনাথের দাবি, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র মন্দিরের উন্নয়ন এবং প্রণামীর অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেই কারণেই তিনি একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রণামীর টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনার কোনও নির্দেশ তিনি দেননি। যদি অন্য কেউ এমন কথা বলে থাকে, তার দায় তাঁর নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে বংশপরম্পরায় সেবায়েতরাই পুজো এবং মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রণামী গণনার পদ্ধতি নিয়ে আদৌ কি কোনও পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছিল? নাকি বিষয়টি শুধুই ভুল বোঝাবুঝি? ভাইরাল অডিওর সম্পূর্ণ সত্যতা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে রয়েছে মন্দিরের সেবায়েতের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপি বিধায়কের স্বামীর স্পষ্ট অস্বীকার। এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং ভাইরাল অডিওর সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
