বাংলার রাজনীতির আঙিনায় দলবদলের নাটকীয়তায় এবার এক নতুন এবং অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মোড় আসতে চলেছে। একসময়ের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ, হুগলির বর্তমান সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সংস্রব ত্যাগ করে ইতিমধ্যেই তিনি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমর্থনে এনডিএ জোটের অংশীদার এনসিপিআই দলে নাম লিখিয়েছেন। তবে এবার গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, তিনি নাকি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন, আর এই জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে খোদ মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে তাঁর করা এক বিস্ফোরক মন্তব্য।
কোনো রকম রাখঢাক না রেখে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন এই সেলিব্রিটি সাংসদ। একসময় যার মুখে সারাক্ষণ শুধু দলনেত্রীর প্রশংসা শোনা যেত, বাংলার সেই জনপ্রিয় দিদি নাম্বার ওয়ান আজ খোলাখুলিই বলছেন যে, লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারানোর জন্য স্রেফ তাঁর সেলিব্রিটি ফেস ভ্যালু এবং জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অন্দরের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থাকলেও আসলে পিছন থেকে পুরো দলটা পরিচালনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বালি চুরি, কয়লা চুরি, রেশন কেলেঙ্কারী থেকে শুরু করে চাকরি চুরির মতো একের পর এক দুর্নীতির কারণেই যে আজ তৃণমূলের এই ভরাডুবি হয়েছে, তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন রচনা।
এমনকি সম্প্রতি দিদি নাম্বার ওয়ানের রিয়্যালিটি শো থেকে তাঁকে আচমকা বাদ দেওয়া নিয়েও ক্ষোভের সুর শোনা গেছে তাঁর গলায়। তবে সবচেয়ে বড় আলোড়ন তৈরি হয়েছে বিজেপিতে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন যে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সব রকম পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি এক বড় তথ্য ফাঁস করে বলেন, অতীতে মিঠুনদা নিজে তাঁকে বিজেপিতে আসার জন্য আন্তরিক অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সেই সময় তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। রূপালী পর্দার একাধিক সুপারহিট ছবিতে একসাথে কাজ করার সুবাদে মিঠুন চক্রবর্তীর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর হলেও, সেই সময় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে হয়তো দাদা তাঁর ওপর একটু অভিমান করে আছেন বলেও মন্তব্য করেন রচনা।
রাজনৈতিক সমীকরণ যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত স্তরের এই শ্রদ্ধা আজও অমলিন। যদিও সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি এই এনসিপিআই সাংসদ, তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস এবং মিঠুন চক্রবর্তীর সেই পুরোনো অনুরোধের কথা বর্তমান আবহে নতুন করে সামনে আসাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একুশে জুলাইয়ের রাজনৈতিক আবহের ঠিক আগেই রচনার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার এবং নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বাংলার রাজনীতিতে কোন বড়সড় পরিবর্তনের অনুঘটক হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।