নন্দীগ্রামের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে ৫টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। পরবর্তীতে শিউলি করকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন পবিত্র কর ও তাঁর স্ত্রী। দুজনেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয় পবিত্র করকে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি তিনি। ভোটে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
পরাজয়ের কিছুদিন পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন শিউলি কর। একইসঙ্গে উপপ্রধান পদও শূন্য হয়ে যায়। ফলে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন করে প্রধান নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর সেই নির্বাচন ঘিরেই শুরু হয় জোর রাজনৈতিক জল্পনা। কার হাতে যাবে প্রধানের আসন? বিজেপি নাকি তৃণমূল—এই প্রশ্নই ঘুরতে থাকে রাজনৈতিক মহলে।
প্রধান নির্বাচনের দিন বদলে যায় অঙ্ক। তৃণমূল সমর্থিত এক নির্দল সদস্য বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করেন। সেই সমর্থনের জোরেই প্রধান পদে নির্বাচিত হন বিজেপির রাধাকান্ত দাস। এর ফলে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ফের প্রধানের পদ নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হয় বিজেপি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার অঙ্কে এই জয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ এর রাজনৈতিক বার্তা।
নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে পবিত্র করের দলবদল একসময় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আবারও বদলে গেল। প্রধান ও উপপ্রধানের পদত্যাগের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ফের প্রধানের আসন দখল করল বিজেপি। যা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় রাজনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নন্দীগ্রামের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের পদ ফিরে পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। অন্যদিকে তৃণমূলের কাছে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট অস্বস্তির বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।
