Using the Ram Mandir for electoral gain, yet dismissing corruption as a 'state matter'? Priyanka Gandhi’s scathing attack puts the BJP on the back foot!

ভোটে ফায়দা তুলতে রামমন্দির, আর দুর্নীতির বেলায় দিতে ‘রাজ্যের বিষয়’? প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তীব্র নিশানায় ব্যাকফুটে বিজেপি!

নির্বাচন এলেই যে রামমন্দিরকে পরম রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ভোট ব্যাংক ভারী করতে মাঠে নেমে পড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি, সেই রামমন্দিরের বিপুল অনুদান তছরুপের অভিযোগ উঠতেই কেন কেন্দ্র দায় এড়াচ্ছে? অযোধ্যায় বিশ্বজুড়ে ছড়ানো রামভক্তদের রক্তজল করা অনুদানের কোটি কোটি টাকা তছরুপ ও নয়ছয়ের মতো গুরুতর দুর্নীতি নিয়ে লোকসভায় কেন মুখ লুকাচ্ছে মোদি সরকার? এবার এই জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে সংসদের বাইরে ও ভেতরে কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তুলোধোনা করলেন কংগ্রেস নেত্রী তথা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সরকারের ‘দ্বিমুখী’ অবস্থানকে যুক্তির চাঁচে রেখে আক্রমণ করেন প্রিয়াঙ্কা। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সাফাই ছিল, রামমন্দিরের এই আর্থিক নয়ছয়ের বিষয়টি নাকি ‘রাজ্য সরকারের’ আওতাধীন। প্রিয়াঙ্কা ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন তোলেন—যে ট্রাস্ট গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার, যাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় দাঁড়িয়ে করেছিলেন, আজ সেখানে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে আসতেই তা রাজ্যের বিষয় হয়ে গেল কীভাবে? প্রিয়াঙ্কার কথায়, “নির্বাচনী ফায়দা তুলতে যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে শুরু করে বিজেপির তাবড় নেতারা রামমন্দির নিয়ে দেশজুড়ে প্রচার চালিয়েছিলেন, তখন তো এটা রাজ্যের বিষয় ছিল না! এখন জনগণের বিশ্বাস ভেঙে অনুদান লোপাট হওয়ার পর জবাবদিহি এড়াতে এই ছলাকলা কেন?”
শুধু ভারতেই নয়, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়াতেও লাখ লাখ মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে শ্রীরামের নামের সাথে। দেশের দরিদ্র থেকে সাধারণ মানুষ নিজেদের পেটে টান দিয়ে মন্দিরের ট্রাস্টে অনুদান জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই টাকা আত্মসাতের স্পষ্ট অভিযোগ সামনে আসার পর সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি দেশে নিট আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা, কাঁদান গ্যাসের সেল, পেলেট গান চালানো এবং বিহারে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে একে-৪৭ ব্যবহারের মতো অন্যায্য দমনপীড়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন নীরব, তা নিয়েও গর্জে ওঠেন কংগ্রেস নেত্রী।
তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রামমন্দিরের অনুদান তছরুপ ও ছাত্র নিগ্রহের বিরুদ্ধে সংসদে ক্রমাগত সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে বিরোধী জোট। বিরোধীদের সাফ দাবি—সংসদই সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সঠিক মঞ্চ। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিজে এসে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ধর্মীয় আবেগ বিক্রি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা বিজেপি যেভাবে এখন মন্দির দুর্নীতির প্রশ্নের উত্তর দিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই রাজনৈতিক ও যৌক্তিক আক্রমণে তা দেশের জনগণের সামনে পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ধর্ম বিক্রি করে রাজত্ব চালানো বিজেপির এই দ্বিমুখী নীতি ও দুর্নীতি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা যে দেশবাসী আর নীরব দর্শক হয়ে মেনে নেবে না, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তীব্র তোপ ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *