Was the ‘Reclaim the Night’ movement at RG Kar merely a fad, while the candle-lit protest in Baruipur was just a piece of theatre? Bengal is astonished by the former Chief Minister’s blatant hypocrisy on the public streets!

আর জি করের ‘রাতদখল’ ছিল হুজুগ, আর বারুইপুরে মোমবাতি হাতে নাটক? প্রকাশ্য রাজপথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চরম দ্বিচারিতা দেখে অবাক বাংলা !

রাজনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন কীভাবে মানুষের নীতি, আদর্শ আর মুখের ভাষাকে এক লহমায় বদলে দিতে পারে, তার সবচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ বর্তমান বাংলার বুকে আরও একবার দেখিয়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র দু’বছর আগের কথা, যখন ২০২৪ সালে আর জি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আবালবৃদ্ধবনিতা সুবিচারের দাবিতে ‘রাতদখল’-এর ডাক দিয়েছিলেন, তখন এই শব্দগুলো তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে তীরের মতো বিঁধত। সেদিনের সেই স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বাত্মক গণআন্দোলনকে বিন্দুমাত্র সম্মান না জানিয়ে তিনি অত্যন্ত অহংকারের সাথে সেটিকে ‘বাম ও অতি বামদের হুজুগ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।

আন্দোলনকারীদের নকশাল দাগিয়ে দিতেও তিনি পিছপা হননি। কিন্তু আজ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষের কাছে গোহারা হেরে, ক্ষমতা হারিয়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে, ঠিক তখনই সেদিনের সেই আন্দোলনের ধরণ আর ‘জাস্টিস’ স্লোগান চুরি করে রাস্তায় নামতে দেখা গেল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বারুইপুরে এক নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে তিনি স্লোগান তুলছেন ‘তোমার আমার এক সুর, জাস্টিস ফর বারুইপুর’। যে নেত্রী এতদিন জাস্টিস শব্দটা শুনলেই মেজাজ হারাতেন, আজ তাঁর এই ভোলবদল আসলে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আর চরম দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মেকি প্রতিবাদের পেছনে যে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে, তা বাংলার সচেতন মানুষ আজ খুব ভালোভাবেই বোঝেন। আর জি কর কাণ্ডের সময় নিজের পছন্দের ও প্রভাবশালী লোকজনকে অপরাধী হওয়া থেকে আড়াল করতে তৎকালীন শাসকদল এবং কলকাতা পুলিশের কিছু পদাধিকারী যে নগ্ন ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা আজ সর্বজনবিদিত।

সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর আর জি করের ফাইল নতুন করে খুলতেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে, যেখানে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নির্যাতিতার ভিসেরার নমুনা পর্যন্ত নষ্ট করার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে আসল অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাও তদন্তের গভীরে পৌঁছাতে চরম বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সে সময় কলকাতা পুলিশের যে সমস্ত দুঁদে কর্তারা আসল সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে অপরাধীদের ক্লিনচিট দিয়েছিলেন, আজ তাঁরা অন্যায় থেকে বাঁচতে পারেননি এবং কলকাতা পুলিশের সেই তিন পদাধিকারী বর্তমানে চাকরি থেকে সাসপেন্ডেড। ক্ষমতার সিংহাসনে বসে অপরাধীদের বাঁচানো আর ক্ষমতা হারাতেই রাস্তায় নেমে কান্নার অভিনয় করা— মমতার এই দুই চরিত্রের ফারাক আজ রাজ্যবাসীর সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

ছাব্বিশের নির্বাচনে সর্বস্ব হারিয়ে যেখানে তৃণমূলের অন্দরেই মমতার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে বিরোধিতার রাস্তা মসৃণ করতে তিনি এখন অন্যের তৈরি করা স্লোগান চুরি করে জননেত্রী সাজার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। অথচ, বারুইপুরের এই সাম্প্রতিকতম ঘটনার পর রাজ্যের বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন যে অভাবনীয় তৎপরতা দেখিয়েছে, তা নজিরবিহীন। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে মূল অভিযুক্তসহ এই ঘটনার সাথে জড়িত সমস্ত নরপিশাচদের লোহার গরাদের পেছনে পুরে ফেলা হয়েছে।

যেখানে বর্তমান প্রশাসন কোনো রকম রাজনৈতিক রং না দেখে শক্ত হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবং নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুততম বিচারের আশ্বাস দিয়েছে, সেখানে সেই সফল প্রশাসনিক তৎপরতাকে কৃতিত্ব না দিয়ে সস্তা রাজনীতির স্বার্থে মোমবাতি হাতে নাটক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে আর জি করের আন্দোলনকারীদের বুকে আঘাত করে আজ নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে সেই আন্দোলনের ধাঁচ ও স্লোগান নকল করার এই নির্লজ্জ দ্বিচারিতাকে বাংলার মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *