বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে যখন গোটা রাজ্যে ক্ষোভের আবহ, ঠিক সেই সময় আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার মাকে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শুধু নিজের মেয়ের জন্যই বিচার চাইবেন?” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার পর ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে। এই আবহেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজনৈতিক আলোচনায়।
বক্তব্যে তিনি শুধু আরজি কর নির্যাতিতার মায়ের প্রসঙ্গই তোলেননি, সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন। তাঁর দাবি, অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে যাঁরা সরব ছিলেন, বারুইপুরের ঘটনায় তাঁদের অনেককেই প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
একইসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মুখে এক ধরনের বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে অন্য ছবি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারুইপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং পরে তাঁর বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
এদিন আরেকটি প্রসঙ্গেও সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অসম্মান করা উচিত নয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এমন সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, বারুইপুরের ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন।
বারুইপুরের ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত। তদন্ত এগোচ্ছে, প্রশাসনও দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিচ্ছে। তবে এই ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও এখন সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ফলে বারুইপুর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে, তেমনই জনসমক্ষে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক যে সহজে থামছে না, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, বারুইপুর কাণ্ডে বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও এখন তুঙ্গে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর আরও জোরালো হয়েছে।
এখন নজর, তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি এই রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।
