পশ্চিমবঙ্গে দু’দফার ভোট গ্রহণ-ই শেষ হয়েছে। আর এবার অপেক্ষা আগামী ৪ঠা মে, কারণ ওই দিনই নির্ধারণ হবে রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য। মানে বাংলার মসনদে আগামীতে কে বসতে চলেছে তা জানা যাবে। যদিও রিপোর্ট বলছে, দুই দফাতেই গেরুয়া শিবিরের নামে সর্বাধিক ভোট পড়েছে। ফলে আর দিন চারেক পর বাংলা জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের দাপট দেখা যাবে বলেই মনে করছেন সকলে। পাশাপাশি চারটি এক্সিট পোল তথা Matrize, P-Marq, Praja Poll এবং Poll Diary বিজেপির বিশাল জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। আবার দুটি পোল তথা Peoples Pulse এবং Janmat Polls মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে সু-স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। আর JVC ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে—হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে, এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি সরকার গড়লে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? আর কার কাঁধে কোন দায়িত্বভার পড়বে? যদিও সম্প্রতি সেই প্রশ্নের উত্তর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ কবে ঘোরা-ফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
ভাইরাল ওই পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বিজেপি সরকার গড়লে মুখ্যমন্ত্রী হবেন দিলীপ ঘোষ। শিক্ষামন্ত্রী ও খাদ্য মন্ত্রীর পদে আসীন হবেন শুভেন্দু অধিকারী। যুবকল্যাণ ও নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী হবেন শমীক ভট্টাচার্য। রাকেশ সিং-কে দেওয়া হবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব। শিল্পমন্ত্রী নিশীথ প্ৰামাণিক, কৃষিমন্ত্রী রেখা পাত্ৰ এবং ক্রিয়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন রুদ্রনীল ঘোষ। তরুনজ্যোতি তিওয়ারিকে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে দেওয়া হতে পারে। প্রাণী সম্পদ ও উদ্যানপালন দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন সন্তু পান। অর্জুন সিং পাবেন তথ্য ও সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রীত্ব। মৎস্যমন্ত্রী করা হবে কৌস্তব বাগচীকে। কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব থাকবেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বস্ত্রমন্ত্রী করা হবে অগ্নিমিত্রা পালকে। পৌর ও নগরউন্নয়ন মন্ত্রীত্ব পাবেন জগন্নাথ সরকার। পঞ্চায়েতমন্ত্রী হবেন অসীম সরকার।
এছাড়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শঙ্কর ঘোষ। চা বাগান ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের দায়িত্ব পাবেন দীপক বৰ্মন। অন্তরবাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্য উভয় দায়িত্বে থাকবেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হবেন রাজু বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সাহিত্য ও পরিবেশ মন্ত্রী পদে নিয়োগ হবেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। শ্রমমন্ত্রী হবেন রূপা গঙ্গোপাধ্য়ায়। সমবায় মন্ত্রী হতে চলেছেন দুধকুমার মণ্ডল। বনমন্ত্রী হবেন সজল ঘোষ। আর পরিবহন মন্ত্রী চন্দনা বাউরি এবং আফগারি দফতরের দায়িত্বে বঙ্কিম ঘোষকে রাখা হবে। তবে, বাকি কিছু দফতর যারা তৃণমূল থেকে জিতবেন তাদের দেওয়া হবে বলেই ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
বলে রাখা ভালো, এই তালিকা কতটুকু সত্যি তা জানা নেই। তাছাড়া, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা রাজ্য শাখার পক্ষ থেকে এমন কোনো তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল বাড়াতে এবং দলের ভেতরের হাওয়া বুঝতে অনেক সময় অনুগামীরা এই ধরনের ‘কাল্পনিক মন্ত্রিসভা’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। আর এই লিস্ট তারই একটি উদাহরণ। যদিও অমিত শাহ তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, ‘বাংলা থেকেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন’, তবে সেই নামটি কে, তা এখনও খোলসা করেনি পদ্ম শিবির। অতএব এই তালিকাটি নেহাতই জল্পনা, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর পরিকল্পনা রয়েছে, তা সময় বলবে। তবে এই ভাইরাল লিস্ট নিয়ে নেটপাড়ায় এখন তুমুল তরজা চলছে। আপনারা কাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান? জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।
