অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে এবার সরাসরি বিধায়কের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন একদল মহিলা। শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে বিধায়কের কার্যালয়ের সামনে তাঁদের ভিড় জমে। মূল প্রশ্ন একটাই—নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও কেন এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে না? নিজেদের সমস্যার সমাধান এবং আবেদনের স্ট্যাটাস জানতে দীর্ঘক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেন মহিলারা।
জানা গিয়েছে, শুধু শিলিগুড়ি নয়, ডাবগ্রাম এবং ফুলবাড়ি এলাকা থেকেও বহু মহিলা এদিন বিধায়কের কার্যালয়ে পৌঁছন। সকাল থেকেই সেখানে তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। নিজেদের প্রাপ্য ভাতার বিষয়ে জানতে মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, জুন মাসের আগে তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রকল্প চালু হওয়ার পর একাধিক কিস্তি পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি। ফলে তাঁদের অনেকেই বুঝতে পারছেন না, আবেদনটি আদৌ অনুমোদিত হয়েছে কি না কিংবা কোন পর্যায়ে গিয়ে আটকে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিধায়কের কার্যালয়ের তরফে মহিলাদের জানানো হয়, তাঁদের আবেদন এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ, এদিনও টাকা কবে পাওয়া যাবে বা ঠিক কোন কারণে টাকা আটকে রয়েছে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সমাধানের কথা জানতে পারেননি তাঁরা। ফলে ক্ষোভ নিয়েই অনেককে ফিরে যেতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। মহিলাদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেদিকেও নজর রাখা হয়। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় উপভোক্তাদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, শিলিগুড়ির এই ঘটনাকে তারই একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
প্রসঙ্গত, জুন মাস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্প ঘিরে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তী সময়ে টাকা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথি, যোগ্য উপভোক্তার তালিকা এবং টাকা পাওয়ার বিষয় নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিনের ঘটনার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, আবেদন করার পরও টাকা না পাওয়া মহিলারা এবার সরাসরি জনপ্রতিনিধির দফতরে গিয়ে নিজেদের সমস্যার উত্তর চাইছেন। তাঁদের অভিযোগ, শুধু আবেদন গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হতে পারে না; টাকা না পাওয়ার কারণ এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথাই জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে বঞ্চিত মহিলাদের এই ক্ষোভ আগামী দিনে আরও ছড়ায় কি না, সেটাই এখন নজরে। পাশাপাশি যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আবেদন শেষ পর্যন্ত কবে অনুমোদিত হবে এবং কবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও আপাতত অধরাই।
