‘সম কাজে সম বেতন’ পেয়ে তিনগুণ বেতন বাড়ল শ্রমিকদের!বিজেপি আসতেই হুগলির ব্রেথওয়েটে শ্রমিকের ঐতিহাসিক জয় !

দীর্ঘ ৪৯ বছরের বঞ্চনা, শোষণ আর শিল্প বন্ধ্যাত্বের কালো অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে বাংলার মেহনতি শ্রমিকদের মুখে ফুটল বিজয়ের চওড়া হাসি! দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানার ধ্বংসলীলা আর বিগত ১৫ বছরের তৃণমূলী অপশাসনের কাটমানি ও লোকদেখানো প্রচারের দিন শেষ করে রাজ্যে পরিবর্তনের নতুন সূর্য উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পের বাস্তব পুনরুজ্জীবন আর শ্রমিকদের অধিকার ফেরানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারই এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক রূপায়ন দেখা গেল হুগলির বুকে। দীর্ঘদিনের দাবি ‘সম কাজে সম বেতন’ বাস্তবায়িত হওয়ায় হুগলির ঐতিহ্যবাহী ব্রেথওয়েট কারখানার গেটে উড়ল বিজয়ের গেরুয়া আবির!

বিগত সরকারের আমলে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল উড়িয়ে বড় বড় শিল্পপতিদের ডেকে শুধু উৎসবের নাটক করা হয়েছে। কিন্তু কারখানার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তিমির রাত্রির অন্ধকারে চোখের জল ফেলেছেন বাংলার শ্রমিকরা। একের পর এক জুটমিল বন্ধ হয়েছে, রুগ্ন হয়েছে ভারী শিল্প, আর শ্রমিকের ভাগ্যে জুটেছে নামমাত্র মজুরি। তবে ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নয়া সরকারের একমাত্র সংকল্প— রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন আর শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

হুগলির ব্রেথওয়েট কারখানার শ্রমিকদের কাছে সম কাজে সম বেতন পাওয়া একসময় ছিল নিছক আকাশকুসুম কল্পনা। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা স্থায়ী কর্মীদের মতোই হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও মাসের শেষে পেতেন তার অর্ধেকেরও কম। এই তীব্র অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিল শ্রমিক সংগঠনগুলি। অবশেষে কেন্দ্রের শ্রম দফতর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ব্রেথওয়েট ম্যানেজমেন্ট সহ একাধিক সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে তলব করে সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়— সম কাজে সম বেতন দিতে হবে, প্রত্যেক কর্মীকে দিতে হবে বৈধ অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং স্বচ্ছ পে-স্লিপ।

সেই নির্দেশের পরই আমূল বদলে গেল মজুরির কাঠামো। এতদিন যেখানে আনস্কিল্ড শ্রমিকরা দৈনিক নামমাত্র টাকা পেতেন, আজ তাঁরা পাচ্ছেন দৈনিক ৭৮৪ টাকা! আর স্কিল্ড বা দক্ষ শ্রমিকরা যেখানে আগে পেতেন মাত্র সাড়ে তিনশো টাকা, আজ তাঁদের দৈনিক মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাক্কা এক হাজার টাকায়! ওভারটাইম আর ২৬ দিনের কাজের হিসাব মিলিয়ে মাসের শেষে যে শ্রমিক আগে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘরে নিয়ে যেতেন, চলতি মাস থেকেই তাঁর বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিনগুণ!

রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ হুগলির এই ঐতিহাসিক অ্যাঙ্গাস ব্রেথওয়েট কারখানায় যেখানে মালগাড়ির ওয়াগন, বগি, কন্টেইনার, ক্রেন ও রেলের জটিল যন্ত্রাংশ তৈরি হয়, সেখানে আজ আর কোনো হতাশা নেই। কারখানার স্থায়ী কর্মী থেকে শুরু করে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক— সবাই আজ একে অপরকে গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে উদযাপন করছেন নতুন ভোরের সূচনা। অস্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি কারখানার বাকি আড়াইশো ঠিকা শ্রমিকের ক্ষেত্রেও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফাঁকা বুলি নয়, কাজের অধিকার আর মেহনতের সঠিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে বিজেপি সরকার প্রমাণ করল— বাংলার শিল্পায়নের আসল মেরুদণ্ড এ রাজ্যের মেহনতি শ্রমিক সমাজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *