বাংলার মাটিতে পা রাখতেই কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটি! যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশের সেই দুঁদে পুলিশ অফিসার, যার নাম শুনলে অপরাধীরা কাঁপতে শুরু করে—সেই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল শর্মা এখন বাংলায়। শুধু আসাই নয়, এসেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এখানে আর কোনো ‘দাদাগিরি’ চলবে না। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি সরাসরি হানা দিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের দুর্গে। সিন্ডিকেট আর বাইক বাহিনীর দাপটে যে ফলতা থরথর করে কাঁপত, সেখানে আজ এক সিংহহৃদয় আইপিএস অফিসারের গর্জনে কোণঠাসা স্বয়ং তৃণমূল প্রার্থী! ফলতার অলিগলি থেকে গ্রামের মেঠো পথ—সর্বত্রই ছিল জাহাঙ্গীর খানের বাইক বাহিনীর তাণ্ডব। সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো, বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া, আর ‘ভোট না দিলে দেখে নেওয়া’র হুঁশিয়ারি—এটাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল। কিন্তু তাঁরা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, এবার ডেরায় ঢুকেছে খোদ ‘সিংহাম’।
অজয় শর্মা কোনও এসি রুমে বসে রিপোর্ট নেওয়ার মানুষ নন। তিনি সরাসরি পৌঁছে গেলেন জাহাঙ্গীরের বাড়িতে। যে প্রার্থীকে ঘিরে থাকত চ্যালা-চামুণ্ডাদের ভিড়, সেই জাহাঙ্গীরের মুখের ওপর দাঁড়িয়ে অজয় শর্মা যে হুঁশিয়ারি দিলেন, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জাহাঙ্গীরের ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে অজয় শর্মার কন্ঠস্বর ছিল তলোয়ারের মতো ধারালো। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জনগণকে ভয় দেখানোর দুঃসাহস করবেন না। আমি আপনাকে সতর্ক করছি। কোনো অভিযোগ এলে আপনি যত বড় প্রার্থীই হন না কেন, আপনাকে ছাড়া হবে না।”
ব্যস, এই এক কথাতেই যেন ফলতার তৃণমূল শিবিরের দম্ভ চুরমার হয়ে গেল। এতদিন যারা ভাবত প্রশাসন তাদের পকেটে, আজ তারা বুঝতে পারল—আসল ‘বস’ চলে এসেছে। ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে বা কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে ফল কী হতে পারে, তা উত্তরপ্রদেশের অপরাধীদের থেকে ভালো আর কেউ জানে না। আর সেই বার্তাই আজ জাহাঙ্গীর খানের ঘরে পৌঁছে দিয়ে এলেন অজয় শর্মা। এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই ফলতায় চিত্রটা বদলে গেছে। সাধারণ মানুষ যারা ভয়ে মুখ খুলতে পারছিলেন না, তাদের চোখে এখন আশার আলো। বিজেপি নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, “এতদিন বাংলায় কেবল গুন্ডারাজ চলেছে, এবার সত্যিকারের বাঘ এসেছে।” তৃণমূলের অন্দরে এখন কান পাতলে কেবল ফিসফাস শোনা যাচ্ছে। পরাজয়ের ভয় আর অজয় পাল শর্মার কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে শাসক দল এখন রীতিমতো কোণঠাসা।
অজয় শর্মা শুধু জাহাঙ্গীরকে ধমক দিয়েই ক্ষান্ত হননি। তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিটি বুথ সুরক্ষিত করার দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফলতার এই চিত্রটা পুরো বাংলার জন্য এক বড় বার্তা। অপরাধীদের আশ্রয়দাতা নেতাদের দিন ফুরিয়ে আসছে। একদিকে জাহাঙ্গীর খানের অস্বীকারের রাজনীতি, আর অন্যদিকে অজয় শর্মার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট এবার শুধু EVM-এর লড়াই নয়, এটা হলো ভয় বনাম সাহসের লড়াই। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার সাধারণ মানুষ এবার নির্ভয়ে নিজের ভোট দেবেন। কারণ, পাহারায় আছেন খোদ যোগী রাজ্যের ‘সিংহাম’। তবে কি ফলতার মাটিতে এবার পরিবর্তনের হাওয়া বইতে চলেছে? আর মাত্র কয়েকদিনেই মিলবে সে উত্তর।
