Young woman left family, religion, and society for love—now alleges husband has vanished with jewelry and money.

প্রেমের টানে পরিবার, ধর্ম ও সমাজ ছেড়েছিলেন তরুণী—এখন অভিযোগ, স্বামী গয়না-টাকা নিয়ে উধাও

একজন তরুণীর জীবনে পরিচয়, বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ভিত্তিতে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে পুরো ভবিষ্যৎকে বদলে দিতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি কঠিন উদাহরণ। নিজের পুরোনো পরিচয় বদলে নতুন ধর্ম ও নতুন নাম গ্রহণ করে তিনি ভেবেছিলেন, জীবনের সঙ্গীই হবে তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আবেগের ওপর ভর করে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই তাকে এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

টিকটকে মুসলিম যুবক ইশারুল মোল্লার সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাংলাদেশের বগুড়ার শম্পারানী ঘোষ নামে এক হিন্দু তরুনীর । প্রেমের টানে ধর্ম, পরিবার এবং সমাজকে বিসর্জন দিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে বেরিয়ে আসেন । আসার আগে মায়ের শেষ সম্বল সোনার গহনা ও জমানো টাকাও চুরি করেন ওই তরুনী৷ পরে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘খাদিজা চৌধুরী’ নাম রাখেন । ইশারুল মোল্লা এক মুসলিম আলেমের ছেলে হওয়ায় শম্পারানী ভেবেছিলেন, ধার্মিক পরিবারের ছেলে হওয়ায় অন্তত জীবনের নিরাপত্তা ও সম্মান পাবেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তার সেই ভুল ভাঙে। ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্বামী ধীরে ধীরে তার সোনার গয়না ও জমানো টাকা হাতিয়ে নেয়। ছয় মাসের মধ্যেই সম্পর্কের ভিত নড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত স্বামী উধাও হয়ে যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনা শুধু একটি দাম্পত্য প্রতারণার গল্প নয়, বরং বিশ্বাসের অপব্যবহারের করুন ছবি।
বর্তমানে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সমাজের কাছেও একা হয়ে পড়া ওই তরুণীর অবস্থান সত্যি কষ্টদায়ক। টিকটকের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের পেছনে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নানা সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শম্পারানীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের ভিত্তিতে ইশারুল মোল্লার পারিবারিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে বিশ্বাস করেছিলেন। সেই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই তিনি পরিবার ছেড়ে, ধর্ম পরিবর্তন করে এবং সঙ্গে থাকা সোনার গয়না ও সঞ্চিত অর্থ নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সেই বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগগুলো শম্পারানী ঘোষের পক্ষ থেকে করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ইশারুল মোল্লার বক্তব্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি প্রতারণা, গার্হস্থ্য নির্যাতন ও আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং আইনগত সুরক্ষার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও এখন ভাবনার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *